
সরাইলে চুরির মিথ্যা অপবাদে, নিরঅপরাধী জেল হাজতে
বিশেষ প্রতিনিধি:- ব্রাম্মণবাড়িয়া সরাইলে শাহজাদাপুর, দক্ষিণ পাড়া,বাজারে বিকাশের দোকান দিয়া ব্যবসা করিয়া আসিতেছিল মোঃ জাহিদ হাসান ঝুমন।এমত অবস্থায় অদ্য ২৬ শে জানুয়ারী রাত ১ ঘটিকার সময় তাহার দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে সরাইল থানায় একটি অভিযোগ করেছে দোকান মালিক ঝুমন।উক্ত ঘটনায় সন্দেহজনক দুই ব্যাক্তি ও অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে অভিযোগ করে সরাইল থানায়,যাহার অভিযোগ নং ০১।
উক্ত অভিযোগে,মোঃ মোশারফ হোসেন (৪০),পিতা মোঃ সৈয়দ লাল ও মোঃ জয়নাল মিয়া (৪২) পিতা মৃত ফকির চাঁন কে উল্লেখ করে অভিযোগ করেন বাদী জাহিদ হাসান ঝুমন। উক্ত অভিযোগে বাদী ঝুমন উল্লেখ করেন,তাহার দোকানে থাকা ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ,৩০ টি মোবাইল সেট,ব্যাটারি,চার্জার ও বিভিন্ন ধরনের মিনিট ও এমবি কার্ড,বিকাশের এজেন্ট ও পার্সোনাল সিম সহ সর্বমোট মূল্য ৩,৪৮,০০০/-তিন লক্ষ আটচল্লিশ হাজার টাকা চুরি হইয়া যায়। এবং উক্ত অভিযোগের পরিপেক্ষিতে উল্লেখ করা দুজনের মধ্যে একজন আসামি মোশারফ হোসেনকে গ্রেফতার করে সরাইল থানা পুলিশ, বর্তমানে তাকে জেল হাজতের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
উক্ত চুরির বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে,আর অন্য দিকে সৃষ্টি হয়েছে আসামির মায়ের কান্নার আহাজারি।
এমন চাঞ্চলকর ঘটনার তথ্য খুঁজতে মাঠে কাজ করে একটি অনুসন্ধানী টিম,উক্ত অনুসন্ধানে জানা যায়,ঝুমন একজন মোবাইল মেকার,সে মোবাইল ঠিক করার পাশাপাশি ফ্রেক্সিলোড,বিকাশ ও মোবাইলের চার্জার এবং মোবাইলের কিছু এক্সেসরিজ মালামাল বিক্রি করতো,সে কোন নতুন মোবাইল ফোন বিক্রি করতো না।এমত অবস্থায় বাদী ঝুমনের ৩০ টি নতুন মোবাইল ফোন দোকান থেকে চুরি হওয়ার বিষয়টি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে শুনে এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।এলাকাবাসীরা বলেন,এই বিষয়টি হাস্যকর আমরা কোন সময় দেখিনি সে এক সাথে দোকানে ৩০ টি নতুন মোবাইল সেট রেখে বিক্রি করে আসতে।আর একটা বিষয় এলাকাবাসীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে,ঝুমনের দোকানে চুরির দিন তার খালা মোছাঃ জোহেরা বেগম এখানে বেড়াতে আসে এবং রাত ১ ঘটিকার সময় সে আসামীদের দেখতে পায়।অথচ সে যে বাড়িতে বেড়াতে আসে সেই বাড়ির আত্মীয়র ঘরের পাশে কোন স্বজনরাই ঝুমনের খালাকে দেখতে পান নাই।তবুও সে এই মামলার সাক্ষী।
উক্ত অনুসন্ধানে,জাহিদ হাসান ঝুমন এর দোকানের কর্মচারী মোঃ তোফায়েল এর কাছে জানতে চাইলে,সে বলে আমি কখনো দেখিনি সে দোকানে নতুন ৩০ টি মোবাইল সেট রেখে বিক্রি করতো,সে কোন নতুন মোবাইল সেট বিক্রি করতো না বলে জানায় সে।এই বিষয়ে,জাহিদ হাসান ঝুমন এর বন্ধু নাঈম এর কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন,চুরি হওয়ার দিনে সন্ধ্যা বেলা ঝুমন আর নাঈম এক সাথে ব্যক্তিগত আলোচনায় বসে,আলোচনার এক পর্যায়ে ঝুমন নাঈমকে বলে আজকে আমার দোকানে চুরি হইতে পারে। এই চাঞ্চলক তথ্য খুঁজতে গিয়ে এলাকাবাসীদের কাছে জানা যায় ঝুমন কে কোনদিন একসাথে ৩০ টি মোবাইল সেট দোকানে রেখে ব্যবসা করে আসতে কেউ দেখে নাই অথচ চুরি হওয়ার পর দিন এলাকাবাসী জানতে পায়, তার দোকান থেকে একটি ল্যাপটপ ৩০ টি নতুন মোবাইল সেট এবং বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যায়। এলাকাবাসী মনে করেন চুরির বিষয়টি একটি সাজানো নাটক,তাই এলাকাবাসী চায় বিষয়টি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এবং আসল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করার জন্য।(পর্ব -১ চলমান)