বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরেই চিরবিদায় নিলেন অপর বন্ধু
ইয়াসিন আরাফাত,ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি:-“বন্ধুত্ব শুধু জীবনের তরে নয়, মরণেও আমরা একসাথেই রবো”—জনপ্রিয় কোনো গানের এই কথাগুলোই যেন বাস্তবে রূপ নিল চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে।আজীবন ছায়ার মতো পাশে থাকা পরম প্রিয় বন্ধুর দাফনের জন্য কবর প্রস্তুত করতে গিয়ে সেই কবরের ভেতরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন আরেক বন্ধু।
সোমবার(২০ এপ্রিল)২০২৬ ইং সকালে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেরোয়া ছৈয়াল বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে এই অলৌকিক ও শোকাবহ ঘটনাটি ঘটে।মৃত দুই বন্ধু হলেন—আবুল হাশেম(৯০)এবং বাচ্চু পাটওয়ারী (৮৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,আবুল হাশেম পেশায় ছিলেন কাঠমিস্ত্রি এবং বাচ্চু পাটওয়ারী ছিলেন স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন।দীর্ঘ কয়েক দশকের বন্ধুত্ব ছিল তাদের। এলাকার যেকোনো মানুষ মারা গেলে তারা দুজন স্বেচ্ছায় কবর খুঁড়ে দিতেন। জীবদ্দশায় তারা শতাধিক কবর খুঁড়েছেন বলে জানান প্রতিবেশীরা।
রোববার রাতেও তারা একসঙ্গে চা পান করেছেন এবং সোমবার ভোরে ফজরের নামাজও আদায় করেন একসঙ্গে।এর কিছুক্ষণ পরই বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন বাচ্চু পাটওয়ারী।প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর সংবাদ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবুল হাশেম।এরপর সওয়াবের আশায় বন্ধুর শেষ বিদায়ের ঘর তৈরি করতে নিজেই কোদাল হাতে কবরে নামেন।কবর খোঁড়া যখন শেষ পর্যায়ে,ঠিক তখনই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে কবরের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন হাশেম।দ্রুত উদ্ধার করে ওপরে তোলা হলে দেখা যায়,তিনিও না ফেরার দেশে চলে গেছেন।”আমার বাবা ও বাচ্চু চাচা সবসময় একসঙ্গে থাকতেন।মানুষ মারা গেলে জান্নাতের আশায় বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়ে দিতেন। আজ চাচার কবরেই বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।”— জহির হোসেন(আবুল হাশেমের ছেলে)এলাকায় শোকের ছায়া দুই বন্ধুর এমন প্রয়াণে পুরো ফরিদগঞ্জ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল ও ইব্রাহিম খলিল জানান, এমন অকৃত্রিম বন্ধুত্বের উদাহরণ বর্তমান সময়ে বিরল।সারাজীবন তারা একে অপরের পরিপূরক হয়ে চলেছেন,আর শেষবেলায় বিদায়টাও নিলেন একসঙ্গে।
এলাকাবাসীর মুখে এখন একটাই কথা—”এমন বন্ধু ভাগ্য কজনের হয়।