সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
হায়দরগঞ্জ বাজারের মধ্য গলিতে ময়লার স্তূপ, চরম জনদুর্ভোগে সাধারণ জনগণ প্রগতিশীল ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে গোসিঙ্গার মাঠে শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রগতিশীল ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে গোসিঙ্গায় মাঠে শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া রায়পুরে অপহরণের পর হত্যা:প্রধান আসামী গ্রেফতার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃত্ববৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময় নরসিংদীর একাধিক ভূমি অফিস পরিদর্শন করলেন:অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আখাউড়া ল্যান্ড কাস্টম স্টেশনে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য ধ্বংস রায়পুরে জমি নিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলা,আহত-৭ আশুগঞ্জে থানাধীন ঢাকা সিলেট মহাসড়কে পুলিশের অভিযানে গাঁজা সহ আটক বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরেই চিরবিদায় নিলেন অপর বন্ধু

ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়, কমছে জমির উর্বরতা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ১৩০ Time View

সম্রাট আলাউদ্দিন, ধামরাই ঢাকাঃ

ঢাকার ধামরাইয়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে খননযন্ত্র (এক্সকেভেটর)ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জমির উপরের অংশ অর্থাৎ টপ সয়েল ইটভাটায় যাওয়ায় জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। এতে করে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। দ্রুত ইটভাটার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে খাদ্য ঘাটতিসহ ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এ উপজেলার অন্তর্গত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ধরে মানিকগঞ্জের দিকে এগুলে সড়ক থেকেই দেখা মিলবে শতাধিক ইটভাটার। ফসলি জমি, আবাসিক এলাকা, নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এসকল ইটভাটা। পরিবশে অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ধামরাই উপজেলায় মোট ইটভাটার সংখ্যা প্রায় দেড় শতাধিক। এরমধ্যে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধিক। নিয়ম না মেনে গড়ে উঠা এসকল ইটভাটার আশপাশের কৃষি জমি ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারীরা ইটভাটার তাপ, ধোয়া ও ধূলাবালিতে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এবং ইট প্রস্তুতের জন্য কৃষি জমির মাটি ব্যবহার করায় কমছে জমির উর্বরতা।ধামরাইয়ের কুশুরা ইউনিয়নের বড় কাঠালিয়া, বালিয়া ইউনিয়নের দুনিগ্রাম, নয়াচর, আমতা ইউনিয়নের জেঠাইল ব্যাপারি পাড়া,বাইশাকান্দা ইউনিয়নের বেরশ, ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের বাঙ্গালপাড়া শাইলবাড়ি, সানোড়া ইউনিয়নের আলোকদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি কেটে মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। নগদ টাকার প্রলোভনে এবং পার্শবর্তী জমির মাটি বিক্রি করায় বাধ্য হয়ে অন্যান্য জমির মালিকরা জমির মাটি বিক্রি করছেন।এছাড়া মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে মাটি কিনে নিচ্ছেন ইটভাটার মালিকপক্ষ। তবে কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি করায় জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে।ধামরাইয়ের কাওয়ালিপাড়া থেকে বালিয়া সড়কের মাদারপুর, বাস্তা এলাকায় সড়কের উভয় পাশের বেশ কয়েকটি স্থানে ইটভাটার জন্য গভীর করে কৃষি জমির মাটি কেটে নেওয়ায় সেখানে তৈরি হয়েছে গভীর খাঁদ।

একাধিক ইটভাটার মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত বছরের নভেম্বর থেকে ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম শুর হয়। চলে পরবর্তী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি ইটভাটার সক্ষমতা অনুসারে ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ইট প্রস্তত করে। এ ইট প্রস্তুত করতে তাদের ৫ লাখ থেকে ৯ লাখ ঘনফুট মাটির প্রয়োজন হয়। যার অধিকাংশ মাটি সংগ্রহ করা হয় ফসলি জমি থেকে। কিছু ক্ষেত্রে নদী, বিল বা পুকুর খননসহ সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প থেকেও মাটি কিনে নেন ইটভাটার মালিকরা। প্রতি বছরই ধামরাইয়ের বিভিন্ন অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে আর্থিক জরিমানাসহ ইটভাটার চিমনি ও চুল্লির আংশিক গুড়িয়ে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন। তবে ওইসকল ইটভাটা কিছুদিন পরেই ভাঙা অংশ মেরামত করে পুনরায় ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু করে দেন ইটভাটা সংশ্লিষ্টরা।গত ২৪ জানুয়ারি বুধবার ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকার অভিযান চালিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ৭টি অবৈধ ইটভাটাকে মোট ৪৭ লাখ টাকা জরিমানাসহ ইভাটার আংশিক ভেঙে দেয় এবং ৩১ জানুয়ারি বুধবার ৫টি ভাটাকে ৩৭ লাখ টাকা জরিমানা করেন।ইটভাটা সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যাক্তি জানান, ইটভাটাগুলো কতোটুকু জায়গা নিয়ে গড়ে উঠবে সে ব্যাপারে কোন ব্যধ্যবাধকতা নেই।ধামরাই উপজেলার ইটভাটাগুলোর অধিকাংশ কৃষি জমি ও আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠায় এসকল ইটভাটার তাপ, ধোয়া ও ধূলোবালিতে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ওই এলাকায় বসবাসকারীরা। এছাড়া খোলা ট্রাকে মাটি পরিবহনের সময় ট্রাক থেকে সড়কে পড়া মাটি পরে ধুলোয় রুপান্তরিত হয়ে চলে যাচ্ছে সড়ক লাগোয়া ফসলি জমি ও বসতবাড়িতে। এতে সড়ক লাগোয়া জমির ফসল উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। বসতবাড়িতে বসবাসকারীরা পরছেন বিপাকে।ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুর রিফফাত আরা বলেন, ইটভাটাগুলো অবশ্যই আইনমেনে জনবসতি এলাকার বাইরে বানাতে হবে। ইটভাটার ধুলোবালি থেকে শ্বাসকষ্ট, শ্বাসনালীতে প্রদাহ, ফুসফুসে দীর্ঘমেয়াদী রোগ হতে পারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, সাধারণত জমির ৬ ইঞ্চি পরিমান মাটি যেকোন ধরণের ফসল উৎপাদনের জন্য খবুই জরুরি। কিন্তু ইটভাটায় জমির ১ ফুটের বেশি গভীর করে মাটি কেটে নেয়া হয়। এরফলে জমি উর্বরতা হারিয়ে ফেলে। ইট পোড়ানোর ক্ষেত্রে খনিজ কয়লা ব্যবহার করা হয়। এছাড়া আইন না মেনে অনেকে কাঠ পুড়িয়ে সেই কয়লা ইটভাটায় ব্যবহার করছে।তিনি বলেন, কয়লা পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোয়ার কার্বন ডাই অক্সাইডে বায়ু দূষিত হচ্ছে। বিশেষ করে খনিজ কয়লা থেকে উৎপন্ন সালফার ডাই অক্সাইড ও কার্বন মনো অক্সাইড এবং নাইট্রাস অক্সাইড এ তিন ধরণের গ্যাস বায়ু দূষণ করে।

ইটভাটার ধুলাবালু গাছপালা ও ফসলের উপর পরে পুরু আস্তরণ তৈরি করে। এতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যহত হয়ে জীববৈচিত্রে বিরুপ প্রভাব ফেলে। উৎপাদন ব্যহত হয়।পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ইতিমধ্যে ধামরাইয়ে অভিযান চালিয়ে ১২টি ইটভাটাকে মোট ৮৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।এ অভিযান অব্যহত রয়েছে।ভেঙে দেয়া অবৈধ ইটভাটায় পুনরায় সংস্কার করে কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা ভূমি কার্যালয় ও কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি শেল গঠন করা হলে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব। অন্যথায় কারো একার পক্ষে এটি মনিটরিং এবং সমাধান করা কঠিন।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, ইতিমধ্যে ৪-৫টি অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কেটে নেয়ার সঙ্গে জড়িতদের ৩-৪ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ২১ টি ড্রাম ট্রাক ৪ টি ভেক্যু জব্দ করা হয়েছে। ইটভাটা তৈরির ক্ষেত্রে জমির সুনির্দিষ্ট কোন পরিমান নেই। যে পরিমান জমি নিয়ে ইটভাটা নির্মাণ করা হয় সেই পরিমান জমির খাজনা আদায় করা হয়ে থাকে।তিনি বলেন, বায়ু দূষণ কমাতে জিগজাগ পদ্ধতিতে ইটভাটা পরিচালনার জন্য ইটভাটার মালিকদের উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় আইসিডিডিআরবি উদ্যোগে উপজেলা কমপ্লেক্সে কর্মশালাও করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category