শাহাজামান বাদশা,পাইকগাছা খুলনা:- পাইকগাছায় কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম পড়েছে। দেখতে যেমন সুন্দর, খেতে তার চেয়ে বেশি সুস্বাদু। শীতের খাবারে মুখরোচক স্বাদ আনতে মাছ-সবজিতে কুমড়া বড়ির প্রচলন দীর্ঘ দিনের। শীত মৌসুমকে কেন্দ্র করে অতিযত্ন সহকারে এই খাদ্যপণ্যটি তৈরি করে থাকেন পাইকগাছার বিভিন্ন অঞ্চলের নারীরা। কুমড়া বড়ি তৈরির উপযুক্ত সময় শীতকাল। শীতের সময় গ্রামীন নারীদের কর্ম ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তারপর দিন ছোট কাজও বেশি। এর মধ্যেই সকল কাজের আগে সকাল বেলা কুমড়োর বড়ি তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকে অধিকাংশ নারীরা। কুমড়ো বড়ি তরকারির একটি মুখরোচক উপাদন। এতে তরকারির স্বাদে যোগ হয় নতুন মাত্রা। শীতের আগমনের সাথে সাথে কুমড়া বড়ি তৈরীর ব্যস্ততাও বেড়েছে গ্রাম অঞ্চলের নারীদের মাঝে। বর্ষাকাল বাদে বাকী মাস গুলোতে কমবেশী কুমড়োর বড়ি তৈরি করা হয়। আশ্বিন মাস থেকে ফাল্গুন এই ৬ মাস কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম পড়ে যায়। আর শীতকাল কুমড়োর বড়ি তৈরির ভরা মৌসুম।এ সময় গ্রামের অধিকাংশ বাড়ীতে কমবেশি কুমড়োর বড়ি তৈরি করা হয়। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা বাজারেও বিক্রি করে অনেকে। শীতের সময় কুমড়োর বড়ির চাহিদা থাকে বেশি, আর গ্রাম অঞ্চলের অনেক নারীরা বাড়তি আয়ের জন্য কুমড়ো বড়ি তৈরি করে থাকে। কুমড়া বড়ি তৈরির প্রধান উপকরণ মাসকলাইয়ের ডাল আর চালকুমড়া। এর সাথে সামান্য মসলা।বাজারে প্রতি কেজি মাসকলাই ১২০ থেকে ১৫০ টাকা আর চাল কুমড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে থাকে। আবার সাইজ হিসাবে চালকুমড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে ক্রয় করা যায়। ৫ কেজি চালকুমড়ার সাথে ২ কেজি মাসকলাইয়ের মিশ্রণে কুমড়োর বড়ি ভাল হয়। প্রথমে মাসকলাই রৌদ্রে শুকিয়ে যাতায় ভেঙ্গে পরিস্কার করে বা না ভেঙ্গে পানিতে ভিজিয়ে রেখে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হয়। প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘন্টা মাসকলাই পানিতে ভেজাতে হয়। তারপর ঢেকি বা শিল-পাটায় বেটে নিয়ে কুমড়োর বড়ির মিশ্রণ তৈরি করা হয়। তবে বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় কুমড়া বড়ি তৈরির মেশিন স্থাপনের পর থেকে সবাই মেশিনে মাড়াই করে মাসকলাই ও কুমড়ার মিহি করে থাকে। এরপর দুইটির মিশ্রণে কুমড়া বড়ির উপকরণ তৈরি করা হয়।মাঠ, বাড়ির আঙ্গিনা, ছাদ বা খোলা জায়গায় ভোর থেকে বড়ি বসানো শুরু করা হয়। পাতলা কাপড়ে সারি সারি বড়ি বসানো হয়। কুমড়া বড়ি বসানোর পর দুই-তিন দিন একটানা রৌদ্রে শুকানো হয়। সূর্যের আলো কম হলে ৩-৪ দিন পর্যন্ত শুকাতে সময় লেগে যায়। শুকানোর পর কাপড় থেকে বড়ি উঠিয়ে পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়।খুলনার পাইকগাছায় বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাড়ির চালে ও মাচায় শোভা পাচ্ছে বড়বড় চাল কুমড়া, যা দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু কুমড়ো বড়ি। শীতের ভোরে উপজেলা শহর ও পাড়া–মহল্লার গৃহিণীরা ব্যস্তসময় পার করছেন বড়ি তৈরির কাজে। পাড়া-মহল্লার গৃহিণীরা বাড়ির ছাদে একত্রে দল বেঁধে,আবার কেউ কেউ মাটিতে মাদুর পেতে বড়ি তৈরির কাজ করছেন।সচেতন মহল বলেছেন,এটাকে বাণিজ্যিক ভাবে নিয়ে নারীরা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতা পেলে তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন ও গ্রামীন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।