শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রগতিশীল ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে গোসিঙ্গার মাঠে শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রগতিশীল ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে গোসিঙ্গায় মাঠে শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া রায়পুরে অপহরণের পর হত্যা:প্রধান আসামী গ্রেফতার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃত্ববৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময় নরসিংদীর একাধিক ভূমি অফিস পরিদর্শন করলেন:অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আখাউড়া ল্যান্ড কাস্টম স্টেশনে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য ধ্বংস রায়পুরে জমি নিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলা,আহত-৭ আশুগঞ্জে থানাধীন ঢাকা সিলেট মহাসড়কে পুলিশের অভিযানে গাঁজা সহ আটক বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরেই চিরবিদায় নিলেন অপর বন্ধু নরসিংদীতে ৭ বছর শিশুকে ধর্ষণ গ্রেফতার এক

দূর্গাপুরে যৌতুকের দাবিতে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের অভিযোগ উঠেছে

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৯১ Time View

দূর্গাপুরে যৌতুকের দাবিতে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের অভিযোগ উঠেছে

মোঃ সেকুল মিয়া,নেএকোনা প্রতিনিধিঃ-
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বসনকোনা গ্রামের মোঃ আঃ সাত্তারের পুত্র সাজ্জাদুজ্জামান নাসিম ওরফে পলাশ এর বিরুদ্ধে,নিজের স্ত্রী কে যৌতুকের দাবিতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন নিহতের ভাই মোঃ হাফিজুর রহমান।

মামলার অভিযোগে হাফিজুর রহমান জানান,নারী ১নং আসামী মোঃ সাজ্জাদুজ্জামান নাসিম ওরফে পলাশ আমার বোন মাহমুদা আক্তার (মৃতক) এর স্বামী। ২/৩নং আসামীগন শ্বশুড়, শ্বাশুড়ী। ১নং আসামীর সহিত বিগত অনুমান প্রায় ০৬ বৎসর পূর্বে আমার বোন মাহমুদা আক্তার (মৃতক) এর রেজিস্ত্রী কাবিন মূলে বিবাহ হয়। বিবাহের সময় আমার পিতামাতা আমার বোনের সংসারের সুখের কথা চিন্তা করিয়া আসামীকে ১,৩৫,০০০/- (এক লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার) টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল সহ সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রদান করি। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যা সন্তান জন্ম হয়। নাম বুশরা (০২) বৎসর। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর থেকেই উল্লেখিত ১নংআসামী, ২ ও ৩নং আসামীর প্ররোচনায় ও সহযোগীয় আমার বোনের নিকট থেকে যৌতুক দাবী করিয়া মারপিটসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করিয়া আসিতেছিল। আমার বোন মৃতক মাহমুদা আক্তার আসামীর এহেন বিষয় আমাদেরকে জানাইলে আমার পিতা-মাতা অতি কষ্টে আসামীকে ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা প্রদান করে। ঘটনার অনুমান এক মাস পূর্বে উল্লেখিত ১নং আসামী মোঃ সাজ্জাদুজ্জামান নাসিম ওরফে পলাশ ব্যবসার কথা বলে আমার বোনের মাধ্যমে সমিতি হইতে ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা উত্তোলন করে। উক্ত টাকা উঠানোর কিছুদিন পর আসামী আরো ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা আমাদের কাছ থেকে যৌতুকস্বরূপ আনিয়া দেওয়ার জন্য আমার বোনকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও মারপিট করে আসিতেছিল। ঘটনার অনুমান ০৬ মাস পূর্ব হইতে ১নং আসামী মোঃ সাজ্জাদুজ্জামান নাসিম ওরফে পলাশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অন্য একটি মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং সেই মেয়ের সাথে প্রায় সময়ই মোবাইল ফোনে কথাবার্তা বলিতে থাকে। উক্ত বিষয়টি আমার বোন মাহমুদা আক্তার (মৃতক) জানতে পেরে আসামীকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বুঝানোর চেষ্টা করে। এর পরেও আসামী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অন্য মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাইতে থাকে। উক্ত বিষয় নিয়ে আমার বোন এবং আসামীর মধ্যে প্রায় সময় কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হইতো। এমতাবস্থায় ইং ২৭/১২/২০২৩ তারিখ সকাল অনুমান ০৯:৩০ ঘটিকার সময় আসামী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অন্য মেয়ের সাথে অন্তরঙ্গ আলাপ আলোচনার বিষয়কে কেন্দ্র করে আমার বোনের সাথে ঝগড়া শুরু করে। ঝগড়ার একপর্যায়ে আসামী আমার বোন মাহমুদা আক্তারকে (মৃতক) মারপিট করিয়া আহত করে। উক্ত ঘটনার পর আমার বোন মাহমুদা আক্তার (মৃতক) বিষয়টি আমার ভগ্নিপতি ৫নং সাক্ষী আব্দুল মান্নানকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায়। পরে আমার ভগ্নিপতি ৫নং সাক্ষী আব্দুল মান্নান উক্ত বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমাদেরকে জানায়। ইং ২৭/১২/২০২৩ তারিখ দিবাগত রাত্র অনুমান ১০:০০ ঘটিকার সময় আমার বোন মাহমুদা আক্তার (মৃতক) তাহার স্বামী ও শিশু কন্যাকে নিয়া তাদের বসত ঘরে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ইং ২৮/১২/২০২৩ তারিখ ভোর অনুমান ০৫:০০ ঘটিকার সময় আমি ও আমার পিতা ১নং সাক্ষী আসামীর চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম এর মাধ্যমে জানতে পারি আমার বোন মাহমুদা আক্তার (মৃতক) খুন হইয়াছে। উক্ত সংবাদ পাইয়া আমি ও মানিত সাক্ষীগনসহ আমার আত্মীয় স্বজন আসামীর বাড়িতে যাইয়া আমার বোনকে ১নং আসামী মোঃ সাজ্জাদুজ্জামান নাসিম ওরফে পলাশ এর ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখি। আমার ধারনা এবং দৃঢ় বিশ্বাস ইং ১নং আসামী মোঃ সাজ্জাদুজ্জামান নাসিম ওরফে পলাশ পরনারীতে আসক্ত হইয়া এবং যৌতুকের জন্য ২৭/১২/২০২৩ তারিখ দিবাগত রাত্র অনুমান ১০:০০ ঘটিকা হইতে ২৮/১২/২০২৩ তারিখ ভোর অনুমান ০৫:০০ ঘটিকার মধ্যে যেকোন সময় ১নং আসামী, ২ ও ৩নং আসামীর প্ররোচানায় ও সহযোগীতায় আমার বোন মৃতক মাহমুদা আক্তার কে যৌতুকের জন্য ঘুমন্ত অবস্থায় খুন করিয়া গলায় উড়না পেঁচাইয়া খাটের উপরে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলাইয়া রেখেছে। আমার বোনের মৃত্যুর বিষয়টি আমি দুর্গাপুর থানা পুলিশকে অবহিত করিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া আমার বোনের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। আমি বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য লোকজনদেরকে জানিয়ে আমার বোনের লাশ আমার বাড়ীতে নিয়া আসি এবং দাফন- কাফন সম্পন্ন করি।

উল্লেখ্য যে,সুরতহাল প্রস্তুতকালীন পুলিশ একটি ফরমে মানসিকভাবে বিপর্যস্থ আমার বৃদ্ধ পিতা ১নং সাক্ষী ও আমার দস্তখত নেয় এবং অন্য একটি সাদা কাগজে আমার বৃদ্ধ পিতার দস্তখত নেয়। পরবর্তীতে মানসিকভাবে বিপর্যন্ত আমার পিতার সাদা কাগজে প্রদত্ত দস্তখত কাজে লাগাইয়া প্রভাবশালী আসামীদের অবৈধ প্রভাবে প্রভাবান্বিত হইয়া অসৎ উদ্দেশ্যে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি এজাহার থানায় দায়ের করেন, যাহার নং দূর্গাপুর থানার মামলা নং ২০(১২) ২৩ ধারা-৩০৬ দঃবিঃ।

২৯/১২/২০২৩ তারিখ সকাল ১০.০০ ঘটিকার সময় আমি দূর্গাপুর থানায় মামলা করিতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আসামীদের প্রভাবে প্রভাবান্বিত হইয়া আমার মামলা না নিয়ে কোর্টে মোকদ্দমা করার পরামর্শ দেওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় অত্র মোকদ্দমা দায়ের করিলাম।

সাক্ষীগন ঘটনা অবগত আছেন এবং প্রমাণ করিবেন। অত্রসহ মৃতকের ছবি দায়ের করা হইল। সেমতে বিনীত প্রার্থনা ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরকৃত মোকদ্দমাটি গ্রহনক্রমে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশদানে বা এফআইআর হিসাবে রেজিস্ট্রি করত। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহনের জন্য দূর্গাপুর থানাকে যথাবিহীত আদেশ দানে সুবিচার করিতে আজ্ঞা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category