
মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন,ধামরাই(ঢাকা)প্রতিনিধিঃ-নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠে রেখে আওয়ামী লীগ কৌশল নিয়েছে,তাতে অনেক আসনে নৌকার প্রার্থীরা এখন ঝুঁকিতে রয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৬৩ আসনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করলেও প্রতিটি আসনেই লড়তে হবে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে। দল থেকেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।যে কারণে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীদেরও এখন চিন্তা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে।এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ। দুইবারের এ সংসদ সদস্য দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মালেক এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাদ্দেস হোসেন অংশ নেয়ার জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বীতার মুখোমুখি রয়েছেন।তবে গত ৫ বছরে ধামরাইয়ের রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মান,কর্মদক্ষতা,যোগ্যতা ও করোনাকালীন সময়ে বেনজীর আহমদের নানামূখী পদক্ষেপের কারণে তাঁর নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী সমর্থকেরা।ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ধামরাই পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব গোলাম কবির বলেন,জাতীয় সংসদে ধামরাইয়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন একজন স্বচ্ছ,যোগ্য ও দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি এটিই সবার প্রত্যাশা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে একজন সাবেক সংসদ সদস্য একজন উপজেলা চেয়ারম্যান রয়েছেন। তাঁদের যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা সকলের দেখার সুযোগ হয়েছে। এক্ষেত্রে তিনজনের যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা সকলের তুলনা করা সুযোগ তৈরি হয়েছে। এবং তুলনার মধ্যে দিয়ে সচেতন ভোটারদের সমর্থন বেনজীর আহমদের পক্ষে।অরপদিকে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মালেক ও অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাদ্দেছ হোসেনের সমর্থকেরা বলছেন ভিন্ন কথা তাদের দাবী, ধামরাইবাসী পরিবর্তন চায়। তারা এবার একজন নির্লোভ এবং কর্মীবান্ধব নেতাকেই ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাবেন।এ ব্যাপারে ধামরাই উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম বলেন,এম এ মালেক সাবেক সংসদ সদস্য। তাঁর সময়ে ধামরাইয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ণ উন্নয়ন হয়েছে। তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। এসকল বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে ধামরাইবাসী তাঁকেই নির্বাচিত করবেন।অপরদিকে ধামরাই পৌর যুবলীগের সভাপতি আমিনুর রহমান বলেন, সাদামাটা জীবন যাপন করেন মোহাদ্দেস হোসেন। গ্রামের বাড়িতে ভাইয়েরা থাকেন। সেখানে নিজস্ব কোন ঘর নেই তাঁর। তিনি ধামরাইয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। সকল ধর্মের লোকজনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। সকলকে নিজের সাধ্যঅনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। সকল দলের বয়োজ্যষ্ঠদের সম্মানসহ কর্মীদের মূল্যায়নের কারণে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে দলের নেতা-কর্মীদের প্রচারণায় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন,দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য দলীয় একটা সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে যেহেতু দলের প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে নমনীয়,সে ক্ষেত্রে দলের কেউ চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে পারেন। এ নিয়ে দল কোনো বাধা দেবে না।