কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে ধামরাইয়ে সাকরাইন উৎসব
মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন,ধামরাই(ঢাকা)থেকেঃ-পৌষ বিদায় নিচ্ছে, আজ সোমবার পৌষের সমাপনী দিনে উদযাপিত হচ্ছে বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী উৎসব পৌষ সংক্রান্তি। বাঙালির সংস্কৃতিতে বারো মাসে তের পার্বণের একটি পার্বণ হলো পৌষ সংক্রান্তি। পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি বাঙালির সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ উৎসবের দিন। এই দিন বাঙালিরা বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। তার মধ্যে পিঠা খাওয়া, ঘুড়ি উড়ানো, মাছের মেলা অন্যতম।ঢাকার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এই দিনটিকে ঘিরে ঐতিহ্যময় সাকরাইন মেলা হয়। ঘুড়ি ওড়ানো, মাটির তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি ও বিভিন্ন রকমের খাবার বিক্রি এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে ধামরাইয়ের ১১টি স্থানে ৩ দিনব্যাপী সংক্রান্তি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বুড়াবুড়ির মেলা শুরু হয়েছে।১৫ জানুয়ারি (সোমবার) ভোর থেকে শুরু হয়েছে পৌষ সংক্রান্তির মেলা। ধামরাই পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত যাত্রাবাড়ীর বটতলায় কাক ডাকা ভোরে শুরু হয় মেলা। শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে বুধবার সকাল থেকে হাজারো দর্শনার্থীদের ভীড়ে মিলন মেলায় পরিণত হয়ে উঠেছে বটতলা মাঠ। আগত ক্রেতারা কিনছে তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী যা স্থানীয় কামার কুমারের তৈরি জিনিসপত্র।এ মেলার অন্যতম আকর্ষণ ঘুড়ি উড়ানো এবং হরেক রকমের খাবার। মেলায় খই, বিন্নি, বাতাসা, চিনির তৈরীর খেলনা, ভাজা পেঁয়াজো, চানাচুর, বাদাম, মাটির তৈজষপত্র, বাঁশ-বেতের তৈজষ পত্র, বাচ্চাদের খেলনার দোকান সহ চটপটির ষ্টল গুলোতে প্রচন্ড ভীড় দেখা যায়। সকল ধর্মের মানুষ এই মেলায় ভীড় করে গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় মাটির তৈরী জিনিষপত্র ক্রয় করার জন্য।আজও মাটির তৈরি জিনিস এবং লোহার তৈরি দা, বটি সহ প্রয়োজনীয় গৃহস্থালীর জিনিসপত্রের দোকানে ভীড় জমিয়েছিল সব বয়সের নারীরা। ধর্মীয় গন্ডির মধ্যে পূজা উৎসব হলেও মেলায় সার্বজনিনতা ফুটে উঠেছে। শিশু কিশোরদের জন্য আনন্দের দিন এটি; সকালে ঘুড়ি উড়ানো, হরেক রকমের খাবার আর খেলনা কেনার বায়নাতো রয়েছেই।ধামরাই সদর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে বিকেলে বসবে মেলা চলবে রাত অবধি। মঙ্গলবার মেলা হবে ধামরাই পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের আইঙ্গন গ্রামে যা স্থানীয়রা কান্দিকুলের মেলা বলে। কোথাও আজ সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে কোথাও বিকেলে,কিছু এলাকায় আগামীকাল এভাবে আগামী তিনদিন বিভিন্ন সময়ে মেলা অনুষ্ঠিত হবে ধামরাইয়ের কালামপুর, সোমভাগ, সানোড়া, গোপালপুর, হাজিপুর,বাড়িগাও, সীতিপাল্লী সহ বিভিন্ন এলাকায়।