পওনা টাকা চাইতে গিয়ে না পাওয়ার ক্ষোভে আত্মহত্যা
রনী আহম্মেদ,কোটালী পাড়া(গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:-গোপালগঞ্জের কোটালী পাড়া উপজেলায় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে না পাওয়ার ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছেন শ্যামল মধু(৫৫) নামের এক বৃদ্ধ।গত বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৮ঃ০০ ঘটিকায় নিজ ঘরে আড়ার সাথে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে শ্যামল মধু।
শ্যামল মধু উপজেলার রামশীল ইউনিয়নের কাফুলা বাড়ি গ্রামের মৃতঃ শ্রী হরি মধুর ছেলে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাপলা বাড়ি গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।খবর পেয়ে ভাঙ্গারহাট ফাড়ির আইসি সিরাজুল ইসলাম তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে প্রাথমিক তদন্ত শেষে, ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ সজ্জা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে।ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, বিগত ২০২০ সালে রামশীল ইউনিয়নের ৪,৫,৬/২ এর সংরক্ষিত মহিলা সদস্য বর্ণিতা মধু শ্যামল মধুর কাছ থেকে ৫ টাকা লাভে ৮০,০০০হাজার টাকা নেয়।বিগত প্রায় পাঁচ বছরে এযাবৎকাল দুই এক হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করে।আর পরবর্তীতে প্রায় বছরখানে ধরে তাকে কোন প্রকার লাভ এবং আসল টাকা দেয় না।এ কারণে বারবার এলাকার বিভিন্ন লোকদের মাধ্যমে টাকা আদায় করার চেষ্টা করে শ্যামল মধু।২৫ শে মার্চ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও,কোন টাকা দিতে ব্যর্থ হয় বর্ণিতা মধু।শ্যামল মধুর ছেলে ঢাকা হাসপাতালে অসুস্থ রয়েছে তার অপারেশন প্রয়োজন,সেই সাথে প্রয়োজন অনেক টাকা।তাই শ্যামল মধুকে বর্ণিতা মেম্বার এর কাছ থেকে টাকা এনে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে বলছিল।গত বুধবার বিকেলে শেষবারের মতো টাকা চাইতে গেলে বর্ণিতা মধু ঈদের পরে ছারা টাকা দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়।
ওদিকে ছেলে বারবার টাকা চাইয়া ফোন করলে জানায়,টাকার জন্য অপারেশন হচ্ছে না।সঠিক সময় অপারেশন করা হচ্ছেনা জানায় এলাকা বাসী।ছেলের অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে না পেরে এবং মহিলা মেম্বার বর্ণিতা মধুর কাছে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে না পেয়ে,রাগে ক্ষোভে পরদিন সকালে নিজের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে শ্যামল মধু।মৃতঃ শ্যামল মধুর ছেলে ডুবির মধু বলছিলেন,বর্নিতা মেম্বারের কাছে আমার বাবা টাকা পাবে,বজ পাঁচ বছর আগের পাওনা টাকা,বারবার দেয়ার কথা বলে হয়রানী করা হয়েছে।কিন্তু সেজন্য আমার বাবা আত্মহত্যা করতে পারে না,ঐদিন আবহাওয়া খারাপ ছিল, তাই টাকা চাওয়ার কারনে নিশ্চয়ই আমার বাবাকে কেহ হত্যা করে ফেলেছে।কিরাকার্য শেষ হলে আমি এ বিষয় মামলা করবো।
এ বিষয়ে ওই এলাকার মধ্যস্থতাকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা,বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক হাবিলদার মনোরঞ্জন মধু বলেন,বর্ণিতা মধুর কাছে শ্যামল মধু ৮০ হাজার টাকা ৫ টাকা লাভে দিলেও বর্ণিতা মধু চল্লিশ হাজার টাকা ব্যতীত এযাবৎকাল আর কোন টাকা পরিশোধ করে নাই,তার ছেলের অপারেশনের জন্য টাকার প্রয়োজন,বর্ণিতা মধুর কাছে পাওনা টাকা চাইতে আসলে ঈদের পরে ছাড়া টাকা দিতে পারবে না বলেজায় মেম্বার। এবং বারবার ওয়াদা দিয়ে ভঙ্গ করে।সেই ক্ষোভে শ্যামল মধুর আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।মহিলা মেম্বার বর্ণিতা মধুর কাছে এছাড়াও একাধিক ব্যক্তি টাকা পায় বলে জানায় মুক্তিযোদ্ধা মনোরঞ্জন মধু ।
এ বিষয়ে বর্ণিতা মধুর কাছে জানতে চাইলে, সাংবাদিকদের দেখে চা বানিয়ে আনার কথা বলে প্রায় পাঁচ থেকে সাত জন সাংবাদিককে বসিয়ে রেখে,কোন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ঘরের পিছন দরজা দিয়ে পালিয়ে যায় মহিলা মেম্বার বর্ণিতা মধু।
এ বিষয়ে বর্ণিত মধুর স্বামীর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,প্রায় পাঁচ বছর আগে শ্যামলের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা সুদে নিয়েছে সে বিষয়ে আমাকে কিছু জানায়নি আমার স্ত্রী। এখন আপনাদের সামনে যখন কথা ফাঁস হয়ে গেল তাই আমি জানগে পারলাম।ও আপনাদেরকে কোন প্রকার জবাব না দিয়ে পালিয়ে গেল।এ বিষয়ে আমি আপনাদের কিছুই বলতে পারব না।
বর্ণিতা মধুর কাছে পাওনা টাকার বিষয়ে রামশীল ইউনিয়ন পরিষদে ২৬/১২/২৪ ইং তারিখ একটি লিখিত অভিযোগ আগে থেকেই দায়ের করা রয়েছে।তাতে দেখা গেছে এযাবৎকাল বর্ণিতা মধুর কাছে শ্যামল মধু ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা সর্বমোট পাবে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। রামশীল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্যামল বাড়ৈ এর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,শ্যামল মধু একজন ভালো লোক।তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে বর্ণিত মধু ফেরত না দেয়ার কারণে আমার পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দেয় শ্যামল মধু।
এলাকার কিছু কুচক্রী মহল শ্যামল মধুকে পাগল সাজানোর চেষ্টা করছে।আমার জানামতে শ্যামল মধু একজন সুস্থ এবং সামাজিক মানুষ। প্রশাসনের কাছে আমার দাবী শ্যামল মধুর মৃত্যুর কারণটি অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে সঠিক তথ্য উদঘাটনের অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বাঙ্গারহাট ফাঁড়ির আইসি সিরাজুল ইসলাম নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আত্মহত্যার খবর শুনে আমার ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েমৃতদেহটি উদ্ধার করে সূরতহাল রিপোর্ট করে ময়না তদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি ।
এ বিষয়ে আত্মহত্যা ব্যতীত আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।