শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সুনামগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষ প্রার্থীর মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও বিশাল জনসমাবেশ চট্টগ্রামে ভার্ড বাংলাদেশ-এর মানববন্ধন ও র‌্যালি পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন ১৪ বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য আটক চট্টগ্রামে এনএসআই সেজে প্রতারণার চেষ্টা,যুবক গ্রেপ্তার কোটালীপাড়ায় সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈ এর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ,তদন্ত কমিটি গঠন নান্দাইলে বিদ্রোহের মশাল ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদে জ্বলছে জনতা হবিগঞ্জের মাধবপুরে নবাগত ওসির মতবিনিময় সভা ঘীরে বৈষম্যের অভিযোগ চান্দিনা থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জামায়াত এমপি পার্থী সুনামগঞ্জের নদী পথে অতিরিক্ত টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজী ও শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন সাপাহার জবই বিল অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত

ডুমুরিয়ায় হারিয়ে যাওয়া লাঙল গরুর হাল চাষ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৮৯ Time View

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা:

ডুমুরিয়া (খুলনা) কৃষি প্রধান বাংলাদেশে এক সময় লাঙল ও গরুর হাল ছাড়া জমি প্রস্তুতের কথা চিন্তাই করা যেত না। কিন্তু কালের পরিক্রমায় তা হারিয়ে গেলেও এ অতীত ঐতিহ্য এখনো দেখা মেলে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা।

খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা গ্রামের রফিক সরদার প্রতি বিঘা জমি ৭০০/ ৮০০ টাকা হারে তার দুটি গরুর হাল ও লাঙল দিয়েই চাষ করছেন।রফিক জানান,পূর্ব পুরুষের হাত ধরে প্রায় ২০-২৫ বছর আগে থেকেই এ কাজের সঙ্গে তিনি জড়িত।প্রতি বছর চাষের মৌসুমে প্রতিদিন ১০০০-১২০০ টাকার মতো আয় হয়।উপার্জিত এ অর্থ দিয়ে গরুর খাদ্য ও সংসার খরচ হয়।কিন্তু বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রের কারণে গরুর হালের কদর কমে গেছে। এতে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,এক জোড়া হালের বলদ ক্রয় করতে
বর্তমানে কমপক্ষে এক লাখ থেকে শুরু করে দের লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়।এ ছাড়া খৈল,ভুসিসহ বিভিন্ন খাবার জোগান দিতে হয় গরুকে।এর পরও রয়েছে গরু চোরের উপদ্রব্য ও বিভিন্ন রোগ বালাই।এসব কারণে কৃষকরা যান্ত্রিক লাঙলের প্রতি ঝুঁকছে।ধনী ও মধ্যবৃত্ত কৃষকরা পাওয়ার টিলার,ট্রাক্টর ক্রয় করে তাদের জমি চাষাবাদ করছে।নিজের জমি চাষ করে অন্যের জমি বিঘা প্রতি ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা হারে ভাড়া দিয়ে চাষ করছে।তাই ক্ষুদ্র কৃষকদের আর হালের বলদ ক্রয় করতে হয় না।তাই উঠে যাচ্ছে এ লাঙল আর গরুর হাল।প্রসঙ্গত,এক সময় দেশের বিভিন্ন জেলা- উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কৃষক গরু,মহিষ পালন করত হালচাষ করার জন্য।অনেকে গবাদিপশু দিয়ে হালচাষকে পেশা হিসেবেও বেছে নিয়েছিল।আবার অনেকে ধান,গম,ভুট্টা,সরিষা,আলু প্রভৃতি চাষের জন্য ব্যবহার করতেন। নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হালচাষ করে তাদের
সংসারের ব্যয়ভার বহন করত। হালের গরু দিয়ে দরিদ্র মানুষ জমি চাষ করে ফিরে পেত তাদের পরিবারের সচ্ছলতা।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন,গরু-মহিষ,লাঙ্গল ও জোয়াল ছিল কৃষকের আশীর্বাদ স্বরূপ।গরু-মহিষ,লাঙ্গল ও জোয়াল ছিল আমাদের ঐতিহ্য ও পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি কৃষি পদ্ধতি। কিন্তু বর্তমান সময়ে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ প্রযুক্তির ব্যবহারে সরকার ৫০% উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করছে। এতে কৃষিতে উৎপাদন খরচ কমবে ও কৃষকরা লাভবান হবে।ফলে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারে কৃষকরা বেশি আগ্রহী হচ্ছে তাই লাঙ্গল-গরুর হাল চাষ আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category