মাসুদ রানা,গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-8 (গোবিন্দগঞ্জ) আসন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন চৌধুরী।এ আসনে নৌকার প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ। দুজনই জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। ফলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে দুজনের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন।
দলের নেতা-কর্মীরা বলেন,প্রতীক বরাদ্দের দিন থেকেই দুই প্রার্থীর পোস্টারে ছেয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা।তাঁরা গোটা উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণা, গণসংযোগ চালাচ্ছেন।বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী সভা করেন। তবে প্রচারণায় এগিয়ে ছিলেন,আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। প্রচারণার শেষ দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী গতকাল বিকেলে উপজেলার কামদিয়া ও কামারদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনের সভা করেন। পাশাপাশি তিনি সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন।আর আবুল কালাম দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ বিএম বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এবং বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের কাঠালবাড়ি,দুধিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী সভা করেন।
আবুল কালামের কর্মী-সমর্থকেরা বলেন,বর্তমান সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন চৌধুরী দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি আশানুরূপ উন্নয়ন করতে পারেননি। এসব কারণে এ আসনের মানুষ এবার পরিবর্তন চায়। আর মনোয়ার হোসেন ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।বেশির ভাগ সময় ঢাকায় থাকেন।দলীয় সংসদ সদস্য হয়েও তিনি ত্যাগী নেতা–কর্মীদের মূল্যায়ন করেননি।
নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন,স্থানীয় সরকার বিভাগের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন। ওই দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলাকার রাস্তাঘাটের যে উন্নয়ন করেছেন,সংসদ সদস্য হিসেবে তা করতে পারেননি। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর উপস্থিতি তেমন একটা দেখা যায়নি। ফলে নেতা-কর্মীদের একটা অংশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। ফলে বর্তমান সংসদ সদস্য হওয়ার পরও তাঁর সঙ্গে অনেকে নেই।
তবে মনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে প্রথম বুলেটিনকে বলেন,‘দলের অনেক নেতা-কর্মী আমার সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁরা আগেও আমার সঙ্গে ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। তাই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। ২০০৮ এবং ২০১৮ সালে আমি বিপুল পরিমাণ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম।এবারও আমি বিজয়ী হব,বলে আশা করছি।
মনোয়ার হোসেন সমর্থিত নেতা-কর্মীরা বলেন,২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় চিনিকলের জমি নিয়ে পুলিশ ও সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়।এতে তিন সাঁওতাল ব্যক্তি নিহত, পুলিশসহ ২০ জন আহত হন। সে সময় সংসদ সদস্য ছিলেন আবুল কালাম। ওই সময় হওয়া মামলায় তাঁকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল। পরে অবশ্য অভিযোগপত্র থেকে তিনিসহ গুরুত্বপূর্ণ ১১ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়। তাঁর নাম বাদ দেওয়া হলেও এ ঘটনার কারণে তাঁর সুনাম কিছুটা হলেও নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া,আবুল কালাম সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নেতাদের মূল্যায়ন করেননি। এ কারণেও কিছু নেতা তাঁর কাছ থেকে দূরে চলে গেছেন। এখন তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোয়ার হোসেনের পক্ষে কাজ করছেন।
আবুল কালাম প্রথম বুলেটিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন,‘গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছিলাম। ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অনেক উন্নয়ন করেছি। এসব কারণে এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছি। আশা করি বিপুল ভোটে জয়ী হব।
রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা যায়,এ আসনে মোট প্রার্থী তিনজন আছেন।অপরজন হচ্ছেন জাতীয় পার্টির কাজী মশিউর রহমান।