শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃত্ববৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময় নরসিংদীর একাধিক ভূমি অফিস পরিদর্শন করলেন:অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আখাউড়া ল্যান্ড কাস্টম স্টেশনে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য ধ্বংস রায়পুরে জমি নিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলা,আহত-৭ আশুগঞ্জে থানাধীন ঢাকা সিলেট মহাসড়কে পুলিশের অভিযানে গাঁজা সহ আটক বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরেই চিরবিদায় নিলেন অপর বন্ধু নরসিংদীতে ৭ বছর শিশুকে ধর্ষণ গ্রেফতার এক কোটালীপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন মাইজভান্ডার আহমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এস এস সি ২০২৬ ব্যাচের পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কোটালী পাড়ার যুবক নিহত

ইপিজেডে নেত্রকোনা–৩ আসনের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালীর সমর্থনে মতবিনিময় সভায় জনতার ঢল

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৯৬ Time View

ইপিজেডে নেত্রকোনা–৩ আসনের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালীর সমর্থনে মতবিনিময় সভায় জনতার ঢল

মোঃ শহিদুল ইসলাম,চট্টগ্রাম:-চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার ৩৯ নং ওয়ার্ডের সিডিএ রিং রোড এলাকায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় নেত্রকোনা-৩(কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী উপস্থিত থেকে সমর্থকদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেয়—স্থানীয় নেতাকর্মী,সামাজিক সংগঠন,ইয়ুথ ও ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিলে মিছিলে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

প্রধান অতিথির ভাষণে রফিকুল ইসলাম হিলালী দেশের ঐতিহ্যগত নেতাদের আদর্শ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন,আগামী নির্বাচনে”ধানের শীষ” প্রতীকের বিজয় অর্জন করা দেশের ভবিষ্যৎ ও আদর্শের প্রশ্ন,এজন্য সকলকে শৃঙ্খলা রক্ষা করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতি বিশেষ আস্থা প্রদর্শন করে বলেন, তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করলে দলীয় বিজয় আরও সহজ হবে-এ কথা তিনি বারবার জোর দিয়ে অভিব্যক্তি করেন।

রফিকুল হিলালী সভাস্থলে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বললেন,“শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দলের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ আমাদের পথপ্রদর্শক।আমরা যদি ঐ আদর্শকে ধরে রাখি এবং ধানের শীষের প্রতি আস্থাশীল থাকি, তাহলে জয় অনিবার্য।” তিনি আরও বলেন,ভোটের দিন পর্যন্ত দলের নিয়ম ও শৃঙ্খলা মাথায় রেখে প্রত্যেককে তাদের নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে কাজ করার দিকেও গুরুত্বারোপ করেন।

সভার সভাপতিত্ব করেন নগর বিএনপির সদস্য ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মোঃ মাহাবুব এলাহী।যৌথ সঞ্চালনায় ছিলেন,আর. জে. রাসেল ও মোঃ হোসেন টিটু।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান,চট্টগ্রাম-১১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী,নগর বিএনপির সদস্য মোঃ নুরুজ্জামান কন্ট্রাক্টর,সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি সাবেক সভাপতি সরফরাজ কাদের রাসেল,জাবেদ আনসারী,মোঃ শাহজাহান, সরদার আদলে ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ আশরাফ উদ্দিন,মিজানুর রহমান পারুল প্রমুখ।পরিবারের সদস্য,স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষও সভায় অংশগ্রহণ করে।

সভায় অভ্যাগত নেতারা হিলালীর চরিত্র, কর্মঠতা ও অঞ্চলভিত্তিক পরিচিতি প্রসঙ্গে ইতিবাচক মন্তব্য করেন।একাধিক বক্তা বলেন,স্থানীয় জনসাধারণের পাশে থেকে গণমাধ্যম ও সামাজিক কার্যক্রমে জোর দেওয়াই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান নিয়ত হওয়া উচিত-এমনই বক্তব্য বেশ কয়েকবার শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে উচ্চারিত হয়।অনুষ্ঠানের পূর্বের সময় থেকে ৩৯ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলি-গলি,মোড় ও পাড়া থেকে মানুষ দলবেঁধে আসতে থাকে,এতে এলাকাটি বেশ হয়রানিমূলকভাবে ঘণভূত হয়ে উঠে।

প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় চলে যাওয়ার পর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শোভাযাত্রা ও মিছিল বের হয়,স্থানীয় থানা এলাকা জুড়ে মিছিল দীর্ঘখন্ডে ছড়িয়ে পড়ে।মিছিলের শেষে বক্তারা স্থানীয় সমস্যা-পানি নিষ্কাশন,রাস্তা সংস্কার, শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা প্রসারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান এবং স্থানীয় নেতাদের সাথে এগিয়ে নিয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে স্থানীয় একটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর গান ও সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণও থাকায় সমাবেশটি কেবল রাজনৈতিক নয়, সামাজিক বন্ধুত্বের এক প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে বলে অনেকে মন্তব্য করেন। আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমে সভার খণ্ডচিত্র দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে-স্থানীয় অধিবাসীরা একে ‘সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ’ বলেও ব্যাখ্যা করেছেন।

শুধু বক্তৃতা নয়—সভায় অংশ নেওয়া অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হিলালীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তাদের স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এমন কয়েকটি দাবি—নগরায় স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ—স্থানীয় নেতাদের নোটে ওঠে এবং বক্তারা এগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

নাগরিক-অবজার্ভার ও সাংবাদিকদের কাছে প্রদত্ত সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচনী পরিবেশও কামনা করি যেখানে শান্তি, শৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকবে; যাতে সবাই অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।” একই সঙ্গে তিনি প্রতিপক্ষের প্রতি সংযম ও পারস্পরিক সম্মান রক্ষারও আহ্বান জানান।

স্থানীয় নানা শ্রেনীর মানুষের উপস্থিতি ও বর্ণাঢ্য মিছিল গেলো দুর্দান্তভাবে আয়োজিত হলেও কিছু অংশগ্রহণকারী দাবি করেন,ভবিষ্যতে এ ধরনের সভাগুলোতে নারী ও তরুণ অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো দরকার—কারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সরাসরি মতামত অপ্রতুল।

স্থানীয় বিএনপি সূত্র বলেছে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তারা যথাযথ পুলিশি ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক সংগঠকদের সহযোগিতা নিশ্চিত করেছে; সভা-সমাবেশ সর্বাঙ্গীনভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। সভার পরে কয়েকটি কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল—স্থানীয় প্রবীণদের নিয়ে মানববন্ধন, তরুণদের সাথে কর্মশালা এবং পথচারী সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি অফিসে যৌথ অনুরোধপত্র প্রেরণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই জাতীয় গণযোগাযোগ মূলক উদ্যোগ স্থানীয় রাজনীতিকে গতিশীল করে তুলে—তাই নির্বাচনী মঞ্চে হিলালীর উপস্থিতি ও এই ধরনের সমাবেশ নীরবে নয় বরং উল্লেখযোগ্যভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষণ বহন করে।

ইপিজেড থানার ৩৯ নং ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় নেত্রকোনা-৩ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালীর নাগরিক-সমর্থন ও সংহতির আহ্বান ছিল কার্যত অনুষ্ঠানের মূল বার্তা। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের বড় অংশের অংশগ্রহণ সভাটিকে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে পরিণত করেছে—যা এখন থেকে নির্বাচনী অঙ্গনে লক্ষ্য রাখা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category