নেত্রকোনায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা–লুটপাট
মোঃ আমান উল্লাহ আমান,ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:-নেত্রকোনায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা,নারী নির্যাতন ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পঞ্চননপুর গ্রামের বিএস খতিয়ান-২৯৯, দাগ নং ৩৩৫ ও ৩৩৭ নম্বর কৃষিজমিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন নারী গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,উৎপল চন্দ্র সরকারের পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ২৫ শতাংশ কৃষিজমিতে দীর্ঘদিন ধরে ধান চাষ করে আসছিলেন তিনি।বৃহস্পতিবার সকালে ওই জমিতে কাজ করার সময় স্থানীয় হযরত আলী ও তার সহযোগীরা সেখানে গিয়ে উৎপল সরকারের পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।হামলাকারীরা তাদের বেদম মারধর করে, গলার চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেয় এবং জমির ধান কেটে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও মেরে ফেলার হুমকিও দেয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
আহতরা হলেন,১. দেবিকা রানী সরকার (২৪), স্ত্রী: উৎপল চন্দ্র সরকার,২. শান্তা রানী সরকার (৩০), স্ত্রী: মানিক চন্দ্র সরকার,৩. পার্বতী রানী সরকার (৭০), স্ত্রী: মৃত রামদেব চন্দ্র সরকার তাদের সবাইকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলায় ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ১০–১২ জনকে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযুক্তরা হলেন-মোঃ হযরত আলী (৪০), মোছাঃ জেসমিন আক্তার (৩২), মোঃ গোলাপ মিয়া (৪৪), স্বপন বিশ্বাস (৩৫), মতীন্দ্র সরকার (৪০), বিশ্বজিৎ সরকার (২২), সানি সরকার (২০), মোঃ এরশাদ মিয়া (৩৮), মোঃ মোকশেদ মিয়া (৪২), মোঃ জুয়েল মিয়া (৩৬), মোঃ সোহাগ মিয়া (৩৫), মোঃ মুসলিম মিয়া (৫২)।
বাদী উৎপল চন্দ্র সরকার বলেন আমরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটির দখলে আছি।আদালতের রায় থাকার পরও আমাদের হয়রানি ও হামলার শিকার হতে হচ্ছে।হামলাকারীরা পূর্বেও ভয়ভীতি দেখিয়েছে। এবার সরাসরি আমাদের পরিবারকে আক্রমণ করেছে।আমি প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
স্থানীয়রা এ হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন এবং সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান,ঘটনার পরপরই মামলা নেয়া হয়েছে। প্রধান আসামি হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।