কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:স্বামী তালাক দেওয়ার ১১ ঘণ্টা পর পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় হিরন ইউনিয়নের দক্ষিণ হিরনের সিদ্দিক মোল্লার ছেলে খাইরুল মোল্লার স্ত্রী পরকীয়া কড়ায় তালাক দেয়। তালাকের ১১ ঘণ্টা পর পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়।
বুধবার (২৫ জুন) উপজেলার দক্ষিণ হিরন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মা হারা হয়েছে এক বছরের শিশু আর দিন । এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত তিন বছর আগে হিরন গ্রামের সিদ্দিক মোল্লার ছেলে খায়রুল মোল্লার সঙ্গে পার্শবর্তী চিতশী গ্রামের কেরামত আলী শেখের মেয়ে জেসমিন বেগমের (২৫) বিয়ে হয়। বিয়ের দেড় বছর পর জেসমিন বেগম একটি পুত্র সন্তানের মা হন।
বিয়ের পর থেকেই জেসমিন বেগমের স্বামী খায়রুল মোল্লা জীবিকার প্রয়োজনে মাঝে মাঝেই বাড়ির বাহিরে থাকত। এ সুযোগে জেসমিন বেগমের সঙ্গে একই গ্রামের আক্তার শেখের ছেলে হাসিব শেখের (২৫) পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে।
এই পরকীয়ার সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হাসিব শেখ গোপনে জেসমিন বেগমের ঘরে এসে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়।
এ সময় জেসমিন বেগমের স্বামীর বাড়ির লোক টের পেয়ে আপত্তিকর অবস্থায় দুজনকে আটক করে ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। এ ঘটনা নিয়ে বুধবার বিকালে খায়রুলের বাড়িতে এক সালিশ বৈঠক হয়।
জেসমিন বেগম বলেন আমি আগের স্বামীর ঘর করবো না বলে হাসিবুরের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়েছি , আমি হাসিবুরের ঘর করব।
ভুক্তভোগী নারীর কাছে জানতে চাইলে বলেন বর্তমানে শালীর বৈঠকে যে ফায়সালা দিয়েছে তাতে আমি খুশি।
সালিশে এলাকার জন প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গের চাপের মুখে খায়রুল তার স্ত্রী জেসমিন বেগমকে তালাক দিতে বাধ্য হন। এই তালাকের ১১ঘণ্টা পর কোটালীপাড়ার ঘাঘর বাজারে বসে ৪ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে হাসিব শেখ ও জেসমিন বেগমের বিয়ে হয়।
এই বিয়েতে খুশি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসিব শেখ ও জেসমিন বেগম। তারা দুজনে বিয়ের সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য সকলের কাছে দোয়া চান।
এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের নিকট জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন ,
বিয়ে দেওয়া আমাদের জানা মতে এটি শরিয়ত ও আইন সম্মত হয়নি। ঘটনা স্থলে একজন বলেন এ ধরনের সালিশ দরবার যারা করেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত।
নারী শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, খুনসহ বিভিন্ন ধরনের সালিশ অযোগ্য অপরাধও এখন কোটালীপাড়ায় সালিশ দরবারের মধ্যে ফয়সালা হচ্ছে। এ সব ঘটনায় ভুক্তভোগী সঠিক বিচার পায় না বলে আমি মনে করি। তাই এ ধরনের সালিশ অযোগ্য অপরাধ যে সকল জনপ্রতিনিধিবা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ফয়সালা করে থাকেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে আগের স্বামী খাইরুল মোল্লার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। বাড়ীতে নাথাকায় একাধিকবার তার ফোনে ফোন দিও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
খায়রুলের পিতা সিদ্দিক মোল্লার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন আমার ছেলের বউ আমাদের পরিবারের সাথে বেইমানি করেছে আমরা তাকে কোনদিনও ক্ষমা করব না । সালিশগন যে বিচার করেছে তাতে আমরা খুশি , কিন্তু ছোট বাচ্চাটার জন্য একটু কষ্ট হয়। এত ছোট বয়সে আমার নাতিটা মা হারা হল।
কোটালীপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২৫/৬/২৫ ইং
০১৭১৮০৬৬০১৮