শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃত্ববৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময় নরসিংদীর একাধিক ভূমি অফিস পরিদর্শন করলেন:অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আখাউড়া ল্যান্ড কাস্টম স্টেশনে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য ধ্বংস রায়পুরে জমি নিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলা,আহত-৭ আশুগঞ্জে থানাধীন ঢাকা সিলেট মহাসড়কে পুলিশের অভিযানে গাঁজা সহ আটক বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরেই চিরবিদায় নিলেন অপর বন্ধু নরসিংদীতে ৭ বছর শিশুকে ধর্ষণ গ্রেফতার এক কোটালীপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন মাইজভান্ডার আহমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এস এস সি ২০২৬ ব্যাচের পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কোটালী পাড়ার যুবক নিহত

মাদক গডফাদাররা কেন অধরা প্রযুক্তির ঘাটতি না প্রশাসনিক দুর্বলতা

মোঃ আলী সোবান
  • Update Time : রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫
  • ১০৯ Time View

ব্যারো প্রধান,ময়মনসিংহ:;ময়মনসিংহ শহরে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান থেমে নেই—গ্রেফতার হচ্ছে ডজন ডজন মাদক ব্যবসায়ী। তবুও শহরের অলিগলি, ব্যস্ত বাজার কিংবা স্কুল-কলেজের আশপাশে মাদকের ছায়া ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হচ্ছে ‘চুনোপুঁটি’রা, কিন্তু অধরাই রয়ে যাচ্ছে মাদক সিন্ডিকেটের গডফাদার বা রাঘববোয়ালরা। প্রশ্ন উঠছে—এই অপার ব্যর্থতা কি শুধুই প্রশাসনিক দুর্বলতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীর-rooted যোগসাজশ

কিশোরদের হাতে ছড়ানো মাদক!
সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ীরা পরিবর্তন করেছে তাদের কৌশল। নিজেরা সরাসরি জড়িত না থেকে তারা অর্থের লোভ দেখিয়ে স্কুলগামী কিশোর-কিশোরীদের ব্যবহার করছে চালান ও সরবরাহে। নগরীর ব‍্যস্ত এলাকাগুলোতে ঘোরাঘুরি করা এসব কিশোরদের পেছনে থাকে অত্যাধুনিক মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং নির্দেশনা প্রদানকারী মূল হোতারা। কিশোররা কখনও রিকশায়, কখনও হাঁটতে হাঁটতে, আবার কখনও বন্ধু পরিচয়ে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে নির্দিষ্ট লোকের হাতে।

একজন গ্রেপ্তার হলে পরিবারের অন্য সদস্য চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা। যেন একটি পরিবারই পরিণত হয়েছে মাদকের ক্ষুদ্র এক ‘ইউনিট’-এ! এতে করে সমাজ হারাচ্ছে নৈতিকতা, আর রাষ্ট্র হারাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। ‘ক্রাইম হট স্পট’ অঞ্চল গুলোতে থেমে নেই ছড়াছড়ি! কৃষ্টপুর বস্তি ও সংলগ্ন এলাকা।–দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি মাদক স্পট।

কেওয়াটখালী ও রেললাইন ঘেঁষা বস্তি এলাকা–ট্রেন চলাচলের আড়ালে রাতে মাদক সরবরাহের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয় সানকিপাড়া বস্তি ও শহরপাড়া সংলগ্ন এলাকা–কিশোরদের মাধ্যমে মাদক সরবরাহের জন্য কুখ্যাত। বড়বাজার বস্তি এলাকা–দীর্ঘদিনের সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয়। গাঙ্গিনাপাড় ও গাঙ্গিনারপাড় রেললাইন সংলগ্ন বস্তি এলাকা
– নিয়মিত পুলিশের অভিযানের পরও অদৃশ্য সিন্ডিকেট সক্রিয়। কালিবাড়ি ও নিচু এলাকাগুলো–ট্রেনের সময় ব্যবহৃত হয় মাদক পাচারে। সেহড়াপাড়া সংলগ্ন এলাকা–মাদকের পাশাপাশি ছিনতাই-চুরি বেড়েছে।

রঘুরামপুর বস্তি ও শহরতলী এলাকার নিচু অঞ্চল–গডফাদারদের আশ্রয়ে শিশু-কিশোর বাহিনীর মাদক সরবরাহ।
দিঘারকান্দা বাইপাস ও ট্রাক টার্মিনাল এলাকা
– আন্তঃজেলা মাদক ট্রানজিট পয়েন্ট। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকা (বিশেষ করে জরুরি বিভাগের পেছনে)
– রোগী-স্বজন ছদ্মবেশে মাদক চক্র সক্রিয়।
টাউন হল পেছনের লেইন, পুরাতন গুদামঘর ও খালি প্লট এলাকা– রাতের বেলা মাদক সেবন ও ডিলিংয়ের কেন্দ্র। শম্ভুগঞ্জ ঘাট ও ব্রহ্মপুত্র নদী সংলগ্ন এলাকা–নদীপথে মাদক আনা-নেওয়ার গোপন রুট।। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের নাম ভেসে আসে, যার ফলে পুলিশের হাতও বাঁধা পড়ে যায়।”

প্রশাসনের নজরে থাকলেও কেন সফল নয় অভিযান?
জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে মূল হোতাদের ধরতে হলে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির আরও আধুনিকায়ন প্রয়োজন।”তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “যতক্ষণ না রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনের ভেতরকার দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে তা রুখে দেওয়া যাবে, ততক্ষণ এসব ‘গডফাদার’ অধরাই থেকে যাবে।”

সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার এখনই সময়-মাদকের বিরুদ্ধে শুধু প্রশাসনিক অভিযান যথেষ্ট নয়—এটা এখন পরিষ্কার। প্রয়োজন পরিবার, স্কুল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রতিরোধ। অভিভাবকদের সচেতনতা, শিক্ষক সমাজের সতর্কতা ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়তে না পারলে, গোটা প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে। শেষ কথায় প্রশ্ন: রাষ্ট্রই যদি ব্যর্থ হয়, তবে সামাজিক আস্থা কোথায় দাঁড়াবে?
ময়মনসিংহ এখন একটি প্রতিচ্ছবি—সারা দেশের। মাদক এক ভয়ঙ্কর ছায়ার মতো গ্রাস করছে আমাদের সমাজকে।

এখনই সময় রাষ্ট্রযন্ত্রের জেগে ওঠার। না হলে খুব শিগগিরই ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ’ কেবল একটি স্লোগানে পরিণত হবে।“যেখানে সমাজ নীরব, সেখানে মাদক উচ্চকণ্ঠে ছড়ায়।” প্রতিবেদকের কলম থেকে আরও প্রতিবেদন পেতে চোখ রাখুন প্রতিদিন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category