ফেইসবুকে সম্পর্ক করে বিয়ের প্রলোভনে এক কিশোরীকে গণধর্ষণ আটক-৩
কে এম শহীদুল ইসলাম,সুনামগঞ্জ:-ফেইসবুকে সম্পর্ক করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের ১৭ বছরের মুসলিম কিশোরী এক মেয়েকে সুনামগঞ্জ এনে হিন্দু প্রেমিকসহ প্রেমিকের সহযোগী আরো ২ বন্ধু মিলে ব্লেকমেইল করে একাধারে একের পর এক ধর্ষণ করে আসছে বহুদিন যাবত।
বিষয়টি জানতে পেরে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন সেখ পিপিএম এর নেতৃত্বে ৩ জন আসামীকে আটক করা হয়েছে গতবুধবার সারাদিন অভিযান পরিচালনা করে এক-এক করে তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,ঘটনাটি ঘটে আসছে গত ৩/৪ মাস যাবত জানা যায় গত তিন চার মাস পূর্বে ফেসবুকের মাধ্যমে ভৈরব নামে একজন ছেলের সাথে পরিচয় হয়।সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে তরুণী সিলেট বিশ্বনাথ হতে তার প্রেমিক ভৈরবের সাথে দেখা করার জন্য সুনামগঞ্জ চলে আসে। সুনামগঞ্জ এসে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে প্রেমিক ভৈরব সাথে দেখা হয়।ভৈরবের সাথে দেখা হওয়ার পরে তরুণী জানতে পারেন যে ভৈরব হিন্দু ধর্মের লোক।ভৈরব তখন জানায় যে,যেহেতু তারা দুজনই ভিন্ন ধর্মের লোক তাই আর তারা তাদের প্রেমের সম্পর্কে সামনে নিতে চায় না।পরবর্তীতে ভৈরব তার বন্ধু সিএনজি চালক সোহেল কে উক্ত বিষয়টি জানালে সোহেল ভিকটিমের মা-বাবাকে ফোন দিয়ে সুনামগঞ্জ আসতে বলে।ভিকটিম তরুণীর মা-বাবা সুনামগঞ্জ এসে তরুণীকে তাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়।ভিকটিম তার বাড়িতে যাওয়ার পর সোহেল মেয়েটিকে বিয়ে করবে বলে আবার সুনামগঞ্জ সোহেলের কাছে নিয়ে আসে। বিবাহিত এবং তিন সন্তানের জনক সোহেলের নিজ বাড়ি সুনামগঞ্জ শহরের ওয়েজখালি আসার পর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সোহেল তরুণীকে ১৫-১৬ দিন তার নিজ বাড়িতে রাখে,এবং দিনের পর দিন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে।
গত ০১/০৩/২০২৬ ইং তারিখে ভিকটিম তরুণীর সাথে সোহেলের মায়ের ঝগড়া হলে সোহেল তরুনীকে নিয়ে তার আরেক বন্ধু সিএনজি চালক এরশাদের বাসায় নিয়ে রাখে।সেখানে রেখে সোহেল সিএনজি চালাতে সিলেট চলে যায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয় তরুণী সোহেলকে ফোন দিয়ে না পেয়ে সোহেলের বন্ধু এরশাদকে বলে মেয়েটির মা-বাবার কাছে দিয়ে আসতে।তখন এরশাদ ও মাসুম নামের দুই বন্ধু ভিকটিম তরুণীকে সিলেটে তার মা-বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন বিশম্বরপুর থানার পলাশ নামক এলাকায় নিয়ে যায়।ওইখানে নিয়ে গিয়ে এরশাদ ভিকটিমকে মাসুমের সিএনজির ভেতরে রেখেই জোর করে ধর্ষণ করে প্রকাশ্যেই।সিএনজি চালক মাসুম ধর্ষণের সহায়তা করে।ধর্ষিত হওয়ার পর ভিকটিম কান্নাকাটি শুরু করলে এরশাদ ও মাসুম তাকে গোপন একটি বাসায় নিয়ে কিছুক্ষণ আটকে রাখে।
পরবর্তীতে সিএনজি দিয়ে তরুণীকে সুনামগঞ্জের সদর থানাধীন ওয়াজখালি এলাকার জুয়েলের বাসায় নিয়ে আসে। জুয়েল তখন উক্ত বিষয়টি সোহেলকে জানালে সোহেল ধর্ষিত তরুণীকে সদর হাসপাতালে নিয়ে ধর্ষণ সংক্রান্ত চিকিৎসা করায়।
এই খবর একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ পিপিএম জেনে বিষয়টি অতি গুরুত্ব দিয়ে
তাৎক্ষণিকভাবে এসআই জহির এবং তথ্য দাতার সহিত যোগাযোগ করে।হাসপাতালে গিয়ে ভিকটিম এর বক্তব্য নেন।তারপরই শুরু হয় অভিযান ২৪ ঘন্টার অভিযানে একে একে ধর্ষণকারী ৩জনসহ একটি সিএনজি আটক করেন সদর থানা পুলিশ ।এঘটনায় নিজেই বাদী হয়ে থানায় তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ দিয়ে মামলা করেছে ঐ তরুনী।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অফিসার কে অবগত করালে তিনিও তরুণীর আইনগত সহায়তার জন্য থানা আসেন।এছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাতক চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন সেখ পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার সাথে জড়িত ৩জন ধর্ষণকারীকে আটক করা হয়েছে এবং তরুনী নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।