পুরাতন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক কিনছেন?আগে জেনে নিন,চেসিস কী এবং কেন তা অপরিহার্য
মোঃ আলী সোবহান,ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান:-
-বর্তমানে দেশেরশহর-বন্দর-গ্রাম সর্বত্রই ব্যাটারি চালিত-ইজিবাইক বা অটো বাইকের ব্যবহার দ্রুত বেড়ে চলেছে। জ্বালানিসাশ্রয়ী ও সহজলভ্য পরিবহনের এই মাধ্যম অনেকের জীবিকার অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে পুরাতন বা ব্যবহৃত ইজিবাইক কেনাবেচার চাহিদাও বেড়েছে বহুগুণে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—এ ধরনের যানবাহন কেনার আগে অধিকাংশ ক্রেতাই প্রয়োজনীয় আইনি দিক,চেসিস নম্বর বা বৈধ কাগজপত্র সম্পর্কে জানেন না।এর ফলে তারা নিজের অজান্তেই আইনি জটিলতা,প্রতারণা ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।এই প্রতিবেদনে আমরা একজন ক্রেতা হিসেবে আপনার করণীয়,আইন অনুযায়ী কী কী প্রয়োজনীয়তা রয়েছে,এবং একটি ইজিবাইক কেনার আগে কোন কোন কাগজ ও তথ্য সংগ্রহ করবেন—তা সহজ ভাষায় তুলে ধরেছি। -🛠️ চেসিস কী? কেন গুরুত্বপূর্ণ?
“চেসিস” (Chassis) হল যেকোনো যানবাহনের মূল কাঠামো বা ভিত্তি,যার ওপর পুরো গাড়ির অন্যান্য অংশ বসানো হয়।একে যানবাহনের “জাতীয় পরিচয়পত্র”ও বলা যায়,কারণ প্রতিটি চেসিসের একটি ইউনিক নম্বর থাকে—যা গাড়ির পরিচয় সনাক্ত করতে সহায়তা করে।🚨 চেসিস নম্বর ছাড়া কোনো যানবাহন আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে গণ্য হয়।সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী,সকল যানবাহনে চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক।এমনকি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক বা অটো বাইকের ক্ষেত্রেও,যদি তা রাস্তায় চলে—তাতে চেসিস নম্বর থাকতে হবে।-📜 কী কী কাগজপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করবেন?-ক্রয়-বিক্রয় কেবল আর্থিক লেনদেন নয়,এটি একটি আইনি দায়িত্ব।নিচের তথ্য ও দলিল সংগ্রহ করলে আপনি ভবিষ্যতের জটিলতা থেকে বাঁচতে পারবেন:✅ ১.চেসিস নম্বর যাচাই করুনঃ
-যানবাহনের গায়ে খোদাই করা চেসিস নম্বর নিজ চোখে দেখুন।-ব্যাটারি বা মোটরের সিরিয়াল নম্বরও সংরক্ষণ করুন✅২.ক্রয়-বিক্রয়-চুক্তিপত্র(Sale-Agreement)
-বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র সংযুক্ত করে লিখিত চুক্তি করুন।-তারিখ,মূল্য,গাড়ির বিবরণ ও উভয়ের স্বাক্ষর অবশ্যই থাকতে হবে।-সম্ভব হলে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এই দলিল সত্যায়িত করুন।
✅ ৩.রেজিস্ট্রেশন ও অনুমতি কাগজপত্রঃ-
বিআরটিএ,-সিটি কর্পোরেশন-পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক ইস্যুকৃত রেজিস্ট্রেশন বা চলাচলের অনুমতিপত্র-ইজারা লাইসেন্স,ব্যবসা লাইসেন্স,ট্যাক্স টোকেন ইত্যাদি-✅ ৪. আইনগত জটিলতা বা মামলা আছে কি না,যাচাই করুন- যানবাহনটি কোনো অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে কি না,তা নিকটস্থ থানায় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত হোন। ✅ ৫.ব্যাটারির রশিদ ও ওয়ারেন্টি (যদি থাকে)-ব্যাটারির বৈধতা ও মান যাচাই করতে হলে এই কাগজপত্র সহায়ক।
❗কেন এসব কাগজপত্র জরুরি?-ভবিষ্যতে-রেজিস্ট্রেশন,লাইসেন্স নবায়ন বা যানবাহন বিক্রি করতে গেলে এসব কাগজপত্র অপরিহার্য।-পুলিশের ধর পাকড় বা অভিযানে বৈধতা প্রমাণের জন্য এই দলিলই একমাত্র উপায়।-চোরাই বা অবৈধ গাড়ি কিনে বসলে আপনি নিজেই আইনের আওতায় পড়বেন-এমনকি গ্রেপ্তারও হতে পারেন।
-⚠️ প্রতারণার বাস্তব চিত্র!-অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে,পুরাতন ইজিবাইক বিক্রেতারা মৌখিক চুক্তিতে গাড়ি বিক্রি করে থাকেন।পরবর্তীতে গাড়ির প্রকৃত মালিক দাবি করে আদালতে মামলা করেন,কিংবা গাড়িটি কোনো অপরাধে ব্যবহৃত বলে জব্দ হয়।এতে ক্রেতা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং আইনগত জটিলতার মুখে পড়েন নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে চুক্তিপত্র আইনসিদ্ধ করা হলে ভবিষ্যতে এটি আদালতে বৈধ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হয়।তাই, যত সাধারণই মনে হোক না কেন —একটি ‘সঠিক চুক্তিপত্র’আপনার বড় রকমের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।-📌 সংক্ষিপ্ত পরামর্শ:-🔹চেসিস নম্বর আছে কি না— প্রথমে নিশ্চিত হোন🔹সকল কাগজ ও চুক্তিপত্র লিখিতভাবে সংগ্রহ করুন🔹মৌখিক কথায় নয় — লিখিত প্রমাণে বিশ্বাস রাখুন🔹প্রয়োজনে বিআরটিএ বা থানায় যাচাই করুন🔹নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে দলিল সত্যায়ন করুন ✅ আপনার সচেতনতা,আপনার নিরাপত্তা-পুরাতন ইজিবাইক বা অটো বাইক কেনার আগ্রহ থাকলে
এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্যই।-মনে-রাখবেন-একটু-সচেতনতা-আপনাকে-আইনি-জটিলতা,প্রতারণা,ও আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে-পারে।-ভাবুন,-যাচাই
করুন-তারপর সিদ্ধান্ত নিন।