সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
কোটালীপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন মাইজভান্ডার আহমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এস এস সি ২০২৬ ব্যাচের পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কোটালী পাড়ার যুবক নিহত নরসিংদীর পলাশে কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার এক ভাটারা থানার তৃণমূল পর্যায় রাজনীতি থেকে বেরে উঠা নাসির উদ্দিন পলাশ চট্টগ্রামে বলি খেলা ও বৈশাখি মেলা উপলক্ষে সিএমপিতে নিরাপত্তা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জ বাণী সংগীত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও শিশু সংগঠনের ঝমকালো আয়োজন চট্টগ্রামে ডিবি পুলিশের অভিযানে সরকারি লুট হওয়া পিস্তল উদ্ধার চট্টগ্রামে মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত গণতন্ত্র ও গণমানুষের স্বার্থে গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত

কোটালীপাড়ায় চোরাই ট্রলার বিক্রি নিয়ে তোলপাড়

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫
  • ১৫১ Time View

কোটালীপাড়ায় চোরাই ট্রলার বিক্রি নিয়ে তোলপাড়

শেখ কামরুজ্জামান(রানা),
কোটালীপাড়া(গোপালগঞ্জ)প্রতিনিধি:-
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার এক ভাঙ্গারীর দোকানে চোরাইকৃত ট্রলার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তিন বিএনপি নেতার সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ ওঠায় তোলপাড় চলছে উপজেলা জুড়ে।কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া (ঠান্ডা),১ নং ওয়ার্ডের সহসভাপতি কামরুল শেখ ও বিএনপি নেতা মহম্মদ আলী ওরফে কানা মহম্মদ ট্রলারটি পবনার পাড় গ্রামের নদীর পাড়ে উঠিয়ে ৩ দিন ধরে কেটে পশ্চিমপাড়ে জিলাল সিকদারের ভাঙ্গারীর দোকানে বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এদিকে এই ঘটনার সম্পৃক্ততাসহ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গতকাল রাতে উপজেলা বিএনপি জরুরী সভা ডেকে কুশলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া ঠান্ডা ও হিরণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নান্নু দাড়িয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।একই সাথে ট্রলার বিক্রির বিষয়ে বিএনপির কোন নেতা জড়িত আছে কিনা তার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন,উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন।কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয় দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা এজন্য ৩ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি ফেসবুক আইডিতে মেশিন দিয়ে ট্রলার কাটা ও পিকআপ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার একাধিক ভিডিও পোষ্ট করার পর তোলপাড় শুরু হয়।এরপরই ফেসবুকে একাধিক ব্যক্তি কমেন্ট ও পোষ্ট করে জানান ট্রলারটি উপজেলার কুশলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ঠান্ডা মিয়ার মধ্যস্থতায় ভাঙ্গারীর দোকানে বিক্রি করা হয়েছে।
আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ফেসবুক পোষ্টে লিখেন,‘বিএনপি কে মন থেকে ভালোবাসতাম কিন্ত কুশলা ইউনিয়ন এর সকল চুরি ডাকাতির গডফাদার সেলিম মিয়া(ঠান্ডা)গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় দলটার প্রতি জনসাধারণ এর মাঝে ঘৃনার সৃষ্টি হয়।পবনারপাড় ট্রলার চুরির ঘটনায় ঠান্ডা স্পষ্টভাবে জড়িত।অবিলম্বে তার পদ থেকে অব্যাহতি চাই।

সরেজমিনে পবনারপাড় গ্রামে গেলে একাধিক ব্যক্তি বলেন,কুশলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া (ঠান্ডা),ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী কামরুল শেখ ও বিএনপি নেতা মহম্মদ আলী ওরফে কানা মহম্মদ লেবার দিয়ে ট্রলারটি নদীর পাড়ে টেনে তোলেন। ষ্টীল ও লোহার তৈরী বিশাল আকৃতির এই ট্রলারটি গ্যাস মেশিন দিয়ে একটানা ৩ দিন ধরে কাটা হয়।এরপর টিহাটি গ্রামের জেলাল সিকদারের পশ্চিমপাড়ের ভাঙ্গারীর দোকানে তারা বিক্রি করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন,ঠান্ডা মিয়া এক সময় জননেত্রীর সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন।বিভিন্ন এনজিওর নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করেন। ৫ আগষ্টের পর এলাকায় এসে হয়ে যান বিএনপি নেতা। তার মামলা বাণিজ্যসহ নানা হয়রানীতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে।
বিএনপি নেতা কামরুল শেখ বলেন,ট্রলারটি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থেকে কিনছি।অর্ধেক ট্রলার আরো ৭/৮ মাস আগে জেলাল সিকদারের ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রি করি। বাকি অর্ধেক ঠান্ডা মিয়ার সহযোগিতায় গত সপ্তাহে একই দোকানে বিক্রি করি।তবে ট্রলারটি চোরাই ছিল কিনা আমার জানা নেই।তবে তিনি ট্রলার ক্রয়ের সঠিক কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

বিএনপি নেতা সেলিম মিয়া ঠান্ডা বলেন,ট্রলারটি চোরাই কিনা আমার জানা নাই।আমার গ্রামের নদীর পাড়ে বসে ট্রলারটি কেটে বিক্রি করতে দেখছি।আমি এই কাজের সাথে জড়িত নই। আমাকে কেন কারন দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই।

বিএনপি নেতা নান্নু দাড়িয়া বলেন,ট্রলার বিক্রির বিষয়ে আমার জানা নেই।কেন আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলো আমি বুঝতে পারছি না।

ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী জিলাল সিকদার বলেন,আমি রহিম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ট্রলারের ভাঙ্গা অংশগুলো কিনেছি।এটি চোরাই ট্রলার ছিল কিনা আমরা জানা নেই।তবে রহিমের ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর দিতে পারেননি ভঙ্গারী ব্যবসায়ী জিলাল সিকদার।

উল্লেখ্য কোটালীপাড়ায় ভাঙ্গারীর দোকানে চোরাই মালামাল বিক্রির সত্যতা ইতোপূর্বে পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এক সাংবাদিকের মন্দির চুরির মালামাল ভাঙ্গারীর দোকান থেকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ।

বিএনপি নেতাদের কারণ দর্শানো নোটিশ ও চোরাই ট্রলার বিক্রির বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন বলেন,দলীয় শৃংখলার বিষয়ে তাদের কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।তবে একটি ট্রলার বিক্রির বিষয়ে কয়েকজন নেতার নামে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।তদন্তে তারা দোষী প্রমানিত হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category