নিজস্ব প্রতিনিধি::গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে বহিস্কার হলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সালমান শিকদার (৩২)।তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্ববায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
গোপালগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্ববায়ক সাজ্জাদ হোসেন হিরা ও সদস্য সচিব মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আজ এই বহিস্কারাদেশ দেওয়া হয়।চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সালমান শিকাদার ও তার সহযোগী ইয়াসিন শিকদার (২০) কে আজ শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে জেল হাজতে পাঠিয়েছে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ।সালমান শিকদার কাকডাঙ্গা গ্রামের জাবের শিকদারের ছেলে ও ইয়াসিন শিকদার একই গ্রামের খিজিত সিকদারের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়,গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কাকডাঙ্গা গ্রামের ওবায়দুল সিকদারের বাড়িতে চুরি করে পালানোর সময় ধাওয়া খেয়ে পার্শ্ববর্তী পুকুরের কচুরীপানায় লুকিয়ে থাকে সালমান শিকদার ও ইয়াসিন শিকদার। এলাকাবাসী ২ ঘন্টা তল্লাশী চালিয়ে তাদের পুকুর থেকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করে।
ঘটনাটির বিষয়ে জাতীয় শেষ সংবাদ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।উক্ত পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
কোটালীপাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাসুদ তালুকদার বলেন,সম্প্রতি একটি চুরির ঘটনায় সালমান শিকাদার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। এজন্য তাকে বহিস্কারের জন্য জেলা কমিটির কাছে গতকাল সুপারিশ করি। আজ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সালমান শিকদারকে বহিস্কার করেন বলে জানা যায়।
আজ শনিবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সালমান শিকদারকে বহিস্কারাদেশে বলা হয়, ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্ববায়ক কমিটির সদস্য জনাব সালমান সিকদারকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্ববায়ক কমিটির সদস্যপদ থেকে বহিস্কার করা হলো। একই সঙ্গে দলীয় কোন কার্যকলাপে জনাব সালমান সিকদারকে অংশগ্রহণ না করতে এবং তার সাথে দলীয় কোনো বিষয়ে যোগাযোগ না রাখার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সকল নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হলো।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাকডাঙ্গা গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন,এলাকায় সালমান শিকদার ছিলেন এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। ৫ আগষ্টের পর থেকে তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছ।চাঁদাবাজী,চুরি ও ছিনতাই তার পেশা হয়ে দাড়ায়।রাজনৈতিক প্রভাবে তাকে কেই কিছু বলতে পারছিল না। কেউ কিছু বলতে গেলে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিষ্ট বলে হুমকি দেওয়া হয়।তার ভয়ে এলাকাবাসী চরম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।তার নামে কোটালীপাড়া থানায় মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।দল থেকে বহিস্কার করায় এবং চুরির মামলায় সালমান শিকদারকে জেল হাজতে পাঠানোতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে এলাকাবাসী।