নওগাঁর সেফটি ট্যাংকে মিতুর লাশের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:-নওগাঁয় মিতু বানু নামের এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকে লাশ গুম করার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ।তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(এআই)ব্যবহার করে দীর্ঘ দেড় মাস পর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার(১০ মার্চ)দুপুরে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জাহান আলী,সামিদুল,সুজ্জাত ও রেন্টু ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়,গত ২৬ জানুয়ারি সদর উপজেলার বিল ভবানীপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে মিতু বানুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ।আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়,মাত্র ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে মিতুকে নওগাঁ শহর থেকে ওই গ্রামে নিয়ে আসা হয়েছিল।সেখানে অসামাজিক কাজে বাধা দেওয়া এবং টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে আসামিরা মিতুকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।পরে রেন্টুর পরামর্শে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে লাশটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয় তারা।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন,এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ছিল।তবে আমাদের তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই(AI) ব্যবহার করে আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সামিদুল ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ আরও জানায়,মিতুকে হত্যার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে লাশ গুম করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে এই চারজন সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল।দেড় মাস ধরে তারা আত্মগোপনে থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি।গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।