বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বিরল সীমান্তে বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার নরসিংদীর শিবপুরে গনহত্যা ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সভা অনুষ্ঠিত আস-সালাম ফাউন্ডেশনের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত সিলেট উত্তরা পেট্রোল পাম্পে কর্মচারীকে ছুরিকাঘাতের ৩ আসামি গ্রেফতার নওগাঁর সেফটি ট্যাংকে মিতুর লাশের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন সাপাহারে ১৬ বিজিবি কর্তৃক সীমান্তে অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার চট্টগ্রামে ইমরানের হাতে হুইলচেয়ার তুলে দিলেন মানবতার ফেরীওলা সাঈদ আল নোমান সরাইলে আলোচিত নয় বছরের কন্যা’শিশু মাইমুনা আক্তার ময়নার সাথে সেদিন কী ঘটেছিল চট্টগ্রামে বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার র‍্যাব সদস্যকে হত্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় যৌথ অভিযান,অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা

পতিত জমিতে জাতীয় ফুল শাপলা স্মৃতির আসনে জায়গা নিয়েছে

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৪
  • ২৯৯ Time View

শেখ মাহতাব হোসেন :: ডুমুরিয়া উপজেলার গোনালী গ্রামের একজন সরকারি চাকরিজীবী খান জাহান আলী গাজী ও গোনালী গ্রামের ব্যাবসায়ী এফ এম ফারুক জাতীয় ফুল শাপলা কুয়াশায় অপরুপ চোখ মেলিয়া সুন্দর দৃষ্টিতে দেখছেন।

খুলনার ডুমুরিয়া থেকে জাতীয় ফুল শাপলা এখন বিলুপ্ত প্রায়। বর্ষা মৌসুমে এক সময় জেলার আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা জলাভূমি, পুকুর-ডোবা, নদী-নালা ও খালবিল এক সময় শাপলায় ভরে থাকত। যা এক সময় গ্রামকে অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে রাখত। এই উদ্ভিদ কোন প্রকার পরিচর্যা ছাড়াই গ্রাম গঞ্জের পুকুর, ডোবা, জলাশয়ে জন্মে থাকে।

একাধিক গুণযুক্ত এই শাপলার ডাটা একদিকে যেমন সবজি অন্যদিকে শাপলার মূল ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শাপলা ফুল ফোটার পর কিছুদিনের মধ্যে ফল জন্ম নেয়। আর ওই ফলের ভেতরে থাকে কালো কালো দানা। এটাকে লোকজন বলে ড্যাপ,বা ‘চাউলিয়া’। শাপলার চাল রোদে শুকিয়ে মহিলারা ভাজতো ঢ্যাপের খৈ। এরপর বর্ষা চলে গেলে শুকনো মৌসুমে ছেলেমেয়েরা ওই সব ডোবা নালা থেকে কুড়িয়ে আনতো শালুক। আগুনে পুড়ে শালুক খেতে দারুণ স্বাদ।

খুলনা জেলাতেও শাপলা ফুলের ডাটার বেশ চাহিদা রয়েছে। তরকারি হিসেবে সুস্বাদু এই শাপলা। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন হাট বাজারে এই শাপলা সবজি হিসেবে ব্যাপক বিক্রি হয়। কিন্তু খুলনার ডুমুরিয়া থেকে বিলুপ্ত প্রায় এই শাপলা এখন স্মৃতির আসনে জায়গা নিয়েছে। কারণ হিসেবে দেখা গেছে, আগের সব পুকুর, নদী, খাল ভরাট করে মানুষের নানা মুখী কর্মকান্ড ও কৃষিতে অতিমাত্রায় আগাছা নাশক ওষুধ প্রয়োগের কারণে শাপলার জন্মস্থলগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।

উপজেলার একাধিক এলাকা ঘুরে দু/একটি পুকুরে গুটি কয়েক শাপলা ফুটে থাকতে দেখা গেছে। যার মধ্যে এলাকায় একটি পুকুরে কয়কটি শাপলা ফুল রয়েছে। শাপলা মূলত বর্ষার শেষ থেকে বর্ষা গ্রামগঞ্জের পুকুর, ডোবা, জলাশয়গুলোতে জন্মে থাকে। বর্তমানে নিচু জমিগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ফসল চাষ হচ্ছে।

ফলে শাপলা জন্মানো সুযোগ পাচ্ছে না। আর পুকুর জলাশয়গুলো পরিস্কার করে বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ হচ্ছে। সে কারণে পুকুরগুলোতেও শাপলা বংশ বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে না। তাই, আগের মত আর শাপলা দেখা যায় না।

এদিকে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল আমিন বলেন খুলনা জেলার অনেক এলাকাতেই বাণিজ্যিক ভাবে শাপলা চাষের সুযোগ রয়েছে। এতে করে বেকার সমস্যা সমাধান হতে পারে অনেকাংশেই। রাস্তার ধারের প্রতিত খালগুলো শাপলা উৎপাদনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এতে করে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পাশাপাশি শাপলার সবজি হিসেবে চাহিদা মিটতে পারে।

এব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন ডুমুরিয়া উপজেলায় পতিত জমি ও গর্ত জমিতে মাছ চাষ করার কারণে জাতীয় ফুল শাপলা এখন বিলুপ্তির পথে।

খুলনা জেলার উপ পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় মাছের ঘের হওয়ায়, অতিরিক্ত ফসল ও জমি পতিত না‌ থাকার ফলে শাপলা জন্মানো সুযোগ পাচ্ছে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category