মো: আলমগীর হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি তারাকান্দা ময়মনসিংহ :-শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাইকোর্ট থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেলেও প্রচারণায় নামতে পারলেন না নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক (৭৫)। এই বিষয় এ
স্বজনরা জানায়,পারিবারিক কাজে গত সোমবার ঢাকায় যান আমিনুল হক। সেখানে যাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত মঙ্গলবার রাতে তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোর পাঁচটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন বলেও জানিয়েছে তার স্বজনরা।
বিকেলে আমিনুল হকের মরদেহ গ্রামের বাড়ি নওগাঁর নজিপুরে পৌঁছাবে। এরপর জানাজা শেষে সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে স্বজনরা।
প্রসঙ্গত, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-২ আসন থেকে অংশ নিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন আমিনুল হক। না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তিনি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্রে বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে প্রার্থিতা বাতিল করেন।
পরবর্তীকালে আমিনুল হক প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের শুনানি শেষে গত বুধবার হাইকোর্ট আমিনুল হকের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন। এরপর বুধবার তাকে ঈগল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
আমিনুল হক ২০০৬ সালে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।উল্লেখ্য, ধামইরহাট-পত্নীতলা নির্বাচনী (নওগাঁ-২) আসনে সরকার দলীয় এমপি শহীদুজ্জামান সরকার, জাতীয় পার্টির প্রার্থী এড. তোফাজ্জল হোসেন, আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আখতারুল আলমও এই আসনে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন এছাড়া তিনি ১৯৮৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত একাধিকবার পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে রেখে গেছেন।এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. গোলাম মওলা বলেন, তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীর মৃত্যু ও নির্বাচন কার্যক্রম নিয়ে আইনে কী আছে, তা দেখে সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত জানানো হবে।