ইমরান হক – স্টাফ রিপোর্টার:- শায়েখুল হাদীস মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানি (হাফিঃ) বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ হেউলিবুনিয়া গ্রামের মৃত নূর হাওলাদারের ছেলে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চতুর্থ মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানি (হাফিঃ) বরগুনা শহরের ইসলামিয়া হাফেজি মাদ্রাসা থেকে হাফেজি পাস করে ঢাকার মোহাম্মদপুরে শায়খুল হাদিস আজিজুল হক প্রতিষ্ঠিত জামেয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৯০ সালে প্রথম দাওরা (মাওলানা) পাস করেন। এরপর তিনি ভারতের দেওবন্দে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তী সময়ে হায়দরাবাদের সাবেলুস সালাম মাদ্রাসা থেকে মুফতি (ফিকা শাস্ত্রে) পাস করেন। পরে তিনি চলে যান সৌদি আরবে। মদীনার লিস্যান্স ইউনিভার্সিটিতে ৮ বছর শিক্ষকতা করার পর দেশে এসে তিনি ঢাকার জামেয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসায় ও বরিশালের মাহমুদিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। ২০০৪ সালে তিনি বরগুনা কেন্দ্রীয় সদরঘাট জামে মসজিদে প্রধান খতিব হিসেবেও চাকরি করেন। পরে তিনি ধানমন্ডির হাতেমবাগ মসজিদের খতিব ছিলেন। এরপর তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলায় মারকাজুল উলুম আল ইসলামিয়া নামে একটি মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। মুফতি জসিমুদ্দিন রাহমানী (হাফিঃ) মারকাজুল উলুম আল ইসলামিয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। এই মারকাজুলের অধীন তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় একটি মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
ইসলামের সকল বিষয়ে শায়েখের লেকচারগুলো সবচেয়ে বিশুদ্ধ এবং বিশুদ্ধ দলীলসহ বর্ণনা করা আছে। বাংলায় এমন আলেম খুজেই পাওয়া দুষ্কর যিনি একাধারে বিশুদ্ধ তাওহীদ,ফিকহ্,শিরক,বিদআতসহ প্রতিটি বিষয়ে শরীয়তকে খুলে খুলে বর্ননা করেন। মুফতি জসিম উদ্দিন রহমানি হলেন সেই সকল হক্কানী আলেমদের মধ্যে একজন যিনি কিনা কোন শরীয়তের নূন্যতম জ্ঞানটুকুও গোপন করেন না।
কয়েক বছর আগে,নাস্তিকদের বিরুদ্ধে তিনি ব্যাপক প্রচারণা চালান। এক পর্যায়ে ব্রগার রাজিব নিহত হয়। সন্দেহের তীর নিক্ষিপ্ত হয় তার দিকে। এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র (আনসারুল্লাহ বাংলা মিডিয়া) পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। পুলিশ এরপর জসিম উদ্দিন ও তার সঙ্গী-সাথীদের একটা গ্রুপকে শায়খের পৈতৃক জেলা বরগুনা থেকে [১২ আগস্ট ২০১৩ ইং] গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ,তিনি ব্রগার রাজিব হত্যায় হত্যাকারী যুবকদেরকে উৎসাহিত করেছেন এবং কোন মিল্লাত বাহিনীর সদস্য। এখন পর্যন্ত তিনি কারাগারে আবদ্ধ আছেন। গত মাসে অর্থাৎ নভেম্বর ২০২৩ এ মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানির চতুর্থ নাম্বার মামলার জন্য কোর্টে উঠানো হয়।
তখন জজ তাকে জিজ্ঞাসা করে,আপনার উকিল কে?
তখন তিনি উত্তরে বললেন,আমার তো কোন উকিল নেই। আর আমার কোন এমন লোকও নেই যে উকিল ধরবে। কারণ আমার কেউ নেই,স্ত্রী-সন্তানও নেই, আত্মীয়-স্বজন কেউ নেই।
আর আমার উকিল ধরার মতো একটা পয়সাও নেই। এমন কোন জমিজমাও নেই,যাহা বিক্রি করে উকিল ধরবো। অতঃপর জজ সাহেব হতবিহবল হয়ে গেলেন তিনি অবাক হয়ে সরকার পক্ষের লোকদের বললেন তোমরা কাকে কিসের মামলা দিয়েছো? আর এই লোকের তো কিছুই নেই,যার কেউ নেই তাকে আবার এমন মামলা কেন দেওয়া হল?কিছুদিন পূর্বে রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) আবার তাকে হাই কোর্টে উঠানো হয়। কিন্তু তখনও তার জামিন শুনানি হয়নি। কারণ সরকার পক্ষের আইনজীবীও উপস্থিত ছিল না এবং তার পক্ষেরও কোন আইনজীবী ছিল না। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে কারাগারে বন্দি মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানি। কেউ কী তার পাশে দাঁড়াতে পারবে না! তার পক্ষে কী কথা বলার কেউ নেই!