শেখ জাকির হোসেন:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ছিলো মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন।
সাতক্ষীরা-১,(তালা-কলারোয়া )আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়বেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ-সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান ।
প্রধানমন্ত্রী ও দলীয়প্রধান শেখ হাসিনার অনুমতি পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সাবেক সংসদ-সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে সাতক্ষীরায় যান।এ সময় সাতক্ষীরা-১(তালা-কলারোয়া) সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হন সাতক্ষীরা সড়কে।পুরো এলাকা যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়।এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে নৌকার প্রার্থীকে ভোট প্রার্থনার আহ্বান জানান তিনি।নৌকার প্রার্থী কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ স্বপ্নকে উদ্দেশ করে ইন্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে দিয়েছে নৌকা,আর নির্বাচন করার জন্য আমাকে দিয়েছেন অনুমতি।আসুন আমরা একই মঞ্চে উৎসবমুখর নির্বাচন করি। বঙ্গবন্ধুকন্যার হাতে গড়া দেশের উন্নয়নের কথা বলি।
ইন্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান বলেন,‘ভোটের মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করি।পৃর্বে সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের খেদমত করেছি,এখন ভোটের মাঠে দেখতে চাই নিজের জনপ্রিয়তা কতটুকু আছে।এসময় হাজারো নেতাকর্মী হাত নেড়ে তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানান।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাতক্ষীরা-১তালা-কলারোয়া আসনের মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান এর সমর্থকরা সকাল থেকে তালা-কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে সাতক্ষীরা জেলায় জড়ো হতে থাকেন।জেলা শহরের প্রধান সড়কে বিশাল শোডাউন শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইন্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
তৃণমূলের চায়ের আড্ডায় জানতে চাইলে জানা যায় উনার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা,শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬২ ইং সালে ছাত্রলীগে যোগদান করেন। ১৯৬৬ ইং সালে ছয়দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬৬ ইং হতে ১৯৬৯ ইং সাল পর্যন্ত তৎকালীন পাকিস্থান প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৬৯ ইং সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুসহ অন্য আসামিদের মুক্তির দাবিতে গড়ে তোলা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। পূর্ব পাকিস্থানের স্বাধিকার আন্দোলনে গনঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭১ ইং সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন সাতক্ষীরা মহাকুমার (বর্তমান সাতক্ষীরা জেলা) মুজিব বাহিনীর প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ইন্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমানের বিষয়ে আরও জানা যায়,তিনি ১৯৮৯ ইং সাল থেকে ২০০০ ইং সাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ ইং সাল থেকে ২০০৫ ইং সাল পর্যন্ত তিনি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৫ ইং সাল থেকে ২০১৫ ইং সাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের এক নং সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
৮ ম ও ৯ ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ২০০১ ইং সালের ৮ ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কাছে পরাজিত হন। ২০০৮ ইং সালের ২৯ শে ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব কে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রার্থী ইঞ্জিঃ শেখ মুজিবুর রহমানের প্রাপ্ত ভোট ছিলো ১৬৮২৯৮ ভোট এবং চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী মোঃ হাবিবুল ইসলাম হাবিবের প্রাপ্ত ভোট ছিলো ১৪১১৬৪ ভোট। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরবর্তীতে তিনি যোগাযোগ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত হন বলে যায়।