সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে
মোঃ কামাল পাশা,সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:-
সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
এক সময়ের বিএনপির একক আধিপত্যের এই জেলায় এবার ধানের শীষের প্রার্থীদের কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী ও প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন কেবল দলীয় প্রতীকের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই,বরং ব্যক্তি ইমেজ এবং আঞ্চলিকতা জয়ের ক্ষেত্রে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ এবংজামায়াতের তৃণমূল গোছানোর কৌশল ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনে বর্তমানে মোট ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।এর মধ্যে সুনামগঞ্জ ১, ২ ও ৫ আসনে দ্বিমুখী এবং সুনামগঞ্জ ৩ ও ৪ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।প্রতিক বরাদ্দের পর থেকেই হাওরবেষ্টিত এই জনপদে প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে।
সুনামগঞ্জ ১ আসনে মূলত লড়াই হবে দ্বিমুখী। এখানে বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের জেলা আমির উপাধ্যক্ষ তোফায়েল আহমদ খান।বিএনপি নেতা আনিসুল হক প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করলেও জামায়াত প্রার্থীরা স্থানীয় বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে জনমত গড়ার চেষ্টা করছেন।এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ এক হাজার ৫৩০ জন।
সুনামগঞ্জ ২ আসনে লড়াই হবে প্রবীণ বনাম নবীনের।বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের তরুণ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।নাছির চৌধুরী তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মাঠ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও শিশির মনির তারুণ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে পুঁজি করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।এখানে আওয়ামী লীগের বড় ভোটব্যাংক কোন দিকে যায়,তার ওপর জয়-পরাজয় অনেকটা নির্ভর করছে।
সুনামগঞ্জ ৩ আসনে লড়াইয়ের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানে প্রবাসীদের পছন্দের প্রার্থী বিএনপির কয়ছর আহমেদের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন নিজ দলেরই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।পাশাপাশি জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীদের শক্তিশালী অবস্থান আসনটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।প্রবাসীদের সমর্থন এবং আঞ্চলিক কার্ড ব্যবহারের কারণে এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জ ৪ আসনেও ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।বিএনপির নূরুল ইসলাম নূরুলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও চারবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।এর সাথে জামায়াতের অ্যাডভোকেট শামস উদ্দিনের শক্তিশালী অবস্থান ধানের শীষের ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।বিশেষ করে মরমী কবি হাছন রাজার উত্তরসূরি জয়নুল জাকেরীনের পারিবারিক প্রভাব এই আসনের ফলাফল পাল্টে দিতে পারে।
সুনামগঞ্জ ৫ আসনে লড়াই হবে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম।শিল্পনগরী ছাতক ও দোয়ারাবাজার নিয়ে গঠিত এই আসনে দুই দলেরই শক্তিশালী জনভিত্তি রয়েছে,যা একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানিয়েছেন,জেলার ৭২০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩২৩টি কেন্দ্রকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।একটি অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসন বদ্ধপরিকর এবং সকল প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।২০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ভোটারের এই জেলায় শেষ পর্যন্ত কার গলায় জয়ের মালা উঠবে,তা দেখতে এখন দেশবাসীর নজর সুনামগঞ্জের দিকে।