ময়মনসিংহে বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:=ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন,ময়মনসিংহ বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার(সার্বিক)কাজী জিয়াউল বাসেত।স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস সভাটি সঞ্চালনা করেন।
সভায় ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি,ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের(মসিক)প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা,বিভাগের অন্তর্গত চার জেলার জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন বিভাগীয় সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।সভায় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, নগরীতে মশা নিধনে ৩৩টি ওয়ার্ডজুড়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি যানজট ও পার্কিং সমস্যা নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ অটোরিকশা উচ্ছেদে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাইকিং,প্রচার-প্রচারণা,লার্ভিসাইড ও এডাল্টিসাইড প্রয়োগ অব্যাহত থাকায় ময়মনসিংহে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি জানান,শহরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম,ডেঙ্গু বিষয়ক জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশা নিধন কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে।চলতি বছরে ময়মনসিংহে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।তবে সমন্বিত উদ্যোগের ফলে বর্তমানে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি নিম্নমুখী।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি বলেন,লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পরিমাণ জমিতে ধান চাষ সম্পন্ন হয়েছে এবং শতভাগ কর্তন সম্পন্ন হয়েছে।পাশাপাশি সরিষা আবাদ ও ভুট্টা চাষ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও ভালো কৃষি অনুশীলন পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সভায় জানান,ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার গারো পাহাড় এলাকায় বন্য হাতির উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে।সম্প্রতি বন্য হাতির খুব কাছাকাছি গিয়ে ভিডিও ধারণের সময় এক যুবক হাতির আক্রমণে নিহত হয়েছেন। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার কাজী জিয়াউল বাসেত বলেন,ডেঙ্গু মূলত গৃহপালিত মশার মাধ্যমে ছড়ায়,তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে বন্য হাতির দলকে কৌতূহলবশত বিরক্ত না করার আহ্বান জানান তিনি।সভায় উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে নির্দেশনা দেন তিনি এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ময়মনসিংহ নগরীকে একটি নাগরিকবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।