ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বিএনপির মন্ত্রিপরিষদে কসবা টেকনোক্রেট মন্ত্রীর দাবি দলীয় কর্মীদের
জাহাঙ্গীর আলম,ব্রাহ্মণবাড়িয়া:-তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা। বিএনপির দুর্দিনের নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে এই পদে দেখতে চান তার অনুসারীরা।
কবীর আহমেদ ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত।আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ১/১১-এর পর বিএনপির ঐক্য ধরে রাখার জন্য নিরলস কাজ করে গেছেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া।
Advertisement
গত জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪(কসবা-আখাউড়া)আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে উত্তাল ছিল।কসবা-আখাউড়া উপজেলার বিএনপি,ছাত্রদল,যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল,মহিলা দল,কৃষক দল,শ্রমিক দল,তাঁতি দল,জাসাসসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে নজিরবিহীন কর্মসূচি হতে দেখা যায়।কিন্তু শেষ পর্যন্ত কসবা-আখাউড়াবাসীর আশা পূরণ হয়নি।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান,দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য,ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে কবীর আহমেদ ভূঁইয়া কসবা ও আখাউড়ায় একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত।
কসবা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি)ফখরুদ্দিন আহমেদ খান বলেন,দলের কঠিন সময়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন নিবেদিতপ্রাণ নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। তিনি বিএনপির তৃণমূল সংগঠনকে নতুন করে উজ্জীবিত করছেন।দলের নেতাকর্মীরা তাকে ভালোবেসে বলেন,দুর্দিনের কাণ্ডারী।
তিনি জানান,গত ১৭ বছর ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবি ছাড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৪ টি সাংগঠনিক ইউনিটে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সুসংগঠিত করে গেছেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া।ছাত্রদল,যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল,কৃষক দল,তাঁতি দল,শ্রমিক দল,জাসাস ও মহিলা দলের ইউনিটগুলো তার নেতৃত্বে সক্রিয় ও কার্যকর হয়ে ওঠে।তার অনুপ্রেরণায় শত শত নতুন নেতাকর্মী রাজনীতিতে যুক্ত হন।বিশেষ করে করোনাকালে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্য,নগদ অর্থ ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়ান।দলীয় যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল তার সক্রিয় উপস্থিতি।এত কিছুর পরেও কবীর আহমেদ ভূঁইয়া গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পাননি।এটি এলাকাবাসীদের জন্য অনেক কষ্টের কারণ হয়ে আছে।এ ব্যাপারে দলের চেয়ারপারসন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি”বলেন আইনজীবী ফখরুদ্দিন আহমেদ খান।
কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক স্বপন বলেন,দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের একজন অগ্রণী মুখ হিসেবে দুঃসময়ে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন নির্ভীকভাবে।এত শ্রমের বিনিময়ে দল তাকে সেইভাবে মূল্যায়ন করেননি,এটি হতাশার।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাইলেই এই হতাশা কাটতে পারে।
আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন আব্দু বলেন,তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং সৎ,ত্যাগী ও মানবিক রাজনৈতিক চেতনার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা-আখাউড়া,তথা দেশের মানুষের কাছে কবীর আহমেদ ভূঁইয়া একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিত।তার সক্রিয় নেতৃত্বে বিএনপি কসবা-আখাউড়া অঞ্চলে আবারও শক্ত ভিত্তি ফিরে পেয়েছে।এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন।কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বরারবই বঞ্চিত ছিলেন।আর কতকাল তিনি এমন বঞ্চিত হয়ে থাকবেন,এটিই দলের হাই কমান্ডের কাছে প্রশ্ন।
কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও জনসম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে আখাউড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তার খান বলেন, “বিএনপির দুঃসময়ে কবীর আহমেদ ভূঁইয়া নেতাকর্মীদের পাশে থেকে মানবতার সেবা করেছেন।মামলা-হামলা,নির্যাতনের সময় তিনি জেলে থাকা কর্মীদের পরিবারকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে সহায়তা করেছেন।তার প্রতিষ্ঠিত ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ,বন্যা ও কভিড-১৯-এর সময় তিনি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।প্রতি বছর হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করে থাকেন। কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি,যুব উন্নয়ন এবং খেলাধুলার প্রসারে তিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছেন।
আমরা চাই,তার এই কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হোক।দল আজ ক্ষমতায় আছে।দলের হাই কমান্ড চাইলে,তাকে আমরা আরও উপরে দেখতে পাব। আমরা চাই,তিনি আমাদের হয়ে সংসদে কথা বলুক। আশা করি,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের দাবি পূরণ করবেন।
আখাউড়া পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া বলেন,কবীর আহমেদ ভূঁইয়া কসবার তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন,যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পাশাপাশি তিনি বিদেশগামী শ্রমিকদের সহায়তায় কাজ করেছেন এবং বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন।সেই কাজে এখনো নিয়োজিত আছেন তিনি।তিনি মন্ত্রী হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন,তথা দেশের আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে আমি আশা করি।
আরও পড়ুন:খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বাদ,কবীর ভূঁইয়ার হাতে ধানের শীষের টিকেট।আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. খোরশেদ আলম ভুঁইয়া বলেন,দলের দুঃসময়ে যে মানুষটি পাশে ছিলেন,সেই কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে আমরা এলাকার হয়ে সংসদে দেখতে চেয়েছিলাম।কিন্তু কসবা-আখাউড়াবাসীর দুর্ভাগ্য সেই আশা পূরণ হয়নি।তাই এই ত্যাগী নেতাকে আগামী দিনে টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সরকার তুহিন বলেন,সবাই আশা করেছিল কবীর আহমেদ ভূইয়া কসবা আখাউড়া থেকে এমপি হবেন।বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও দুর্ভাগ্যবশত, এবারও কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে বঞ্চিত করা হয়। দলের কাছে কবীর আহমেদ ভূইয়ার যথাযথ মূল্যায়ন চাই।এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছবে।