এ এইচ রাজীব:
প্রকৃতির নিয়ম মেনে বছর ঘুরে আবার চলে এসেছে শীত।আমরা যখন এই শীতের আমেজে পিঠা-পুলির উৎসবের ভাবনা নিয়ে ব্যস্ত,ঠিক মুদ্রার বিপরীত পিঠের মানুষের আদৌ কি আছে শীত বস্ত্র?তীব্র কুয়াশা,কনকনে হিমেল হাওয়া সব মিলিয়ে অসহায় দরিদ্র প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কষ্টের সীমা থাকে না।এছাড়াও প্রতিবার তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এসে এসব দরিদ্র প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় আরো বিরূপ প্রভাব ফেলে।কর্মসংস্থান বন্ধ সহ নানা অসুখ-বিসুখ মিলিয়ে এই খেটে খাওয়া মানুষের অসহায়ত্বকে প্রকট করে তোলে।আর সবচেয়ে বড় কষ্টের ব্যাপার তখন হয়,যখন এই হাড়কাপানো শীতেও তাঁরা শীত নিবারণের জন্য পর্যাপ্ত শীত বস্ত্র না পায়।কিন্তু এসব হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের পাশে যদি আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজ অবস্থান থেকে কিছু করার চেষ্টা করি, তবে হয়ত তাঁদের ঠোটে তৃপ্তির হাসি আর দু’চোখে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা দেখতে পাবো।
তাইতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের একজন শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস তার একান্ত প্রচেষ্ঠায় প্রতিবছর দরিদ্র প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী পালন করে আসছে।এরি ধারবাহিকতায় এ বছর ১০ ডিসেম্বর এক ঝাক শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছুটে যান রাজশাহী পবা উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম আফি পাড়া।এই গ্রামের এক বাসিন্দা আবু কালাম দুখু,মজার বিষয় হলো তিনি একজন কমনজেন্ডার অর্থাৎ তৃতীয় লিঙ্গের।
তার সহযোগীতায় এলাকার দুস্ত ও গরীব মানুষের তালিকা করে একশতাধিক মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করেন।বিগত চার বছর ধরে ওই এলাকাতে কম্বল দিয়ে আসছেন এবং প্রত্যেকবারই আলাদা আলাদা লোকজনদের।একবার যাদেরকে দেওয়া হয়েছে তাদেরকে পরের বছর আর না।আর অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।এতে আর্থিক সহযোগীতা করেছেন শিক্ষার্থীরও।
রাবিরে সেই শিক্ষক বলেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সকলের কাছে হয়তো এই সাহায্য পৌঁছে দিতে পারবো না,কিন্তু আমার সামর্থের মধ্যে যাদের সম্ভব তাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি।শিক্ষার্থীদের যুক্ত করেছি এই ভেবে,তাদের মন ও মানসিকতা এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রসারিত হবে। যাতে করে তারা নিজেরাও নিজেদের জায়গা থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুস্থ মানুষদের সাহায্য সহযোগিতা করতে পারে।তিনি আরও বলেন আমার এই সকল চিন্তা ধারাকে সর্বোচ্চ সাহস সহযোগিতা দিয়ে চলেছেন আমার সহধর্মিনী পারুল ফেরদৌস।তার সহযোগিতা না থাকলে এই কাজগুলো করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।