সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে রোগীদের চরম ভোগান্তি
মোঃ কামাল পাশা,সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:-
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে রোগীদের চরম ভোগান্তি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দায়িত্বহীনতার চিত্র উঠে এসেছে।
সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে চিকিৎসকরা নিজেদের মতো রুটিন তৈরি করে রোগীদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি সারাদিন বসিয়ে রেখে শেষ মুহূর্তে চিকিৎসা না দিয়েই রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা এখন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার মাইনর সার্জারি সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে এমনই এক অমানবিক আচরণের খবর পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের একজন জানান,তিনি পেশায় সরকারি চাকুরিজীবী হয়েও ছুটির দিনে চিকিৎসার জন্য সকাল ১০টা থেকে হাসপাতালে অপেক্ষা করেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা বা আরএমও’র মৌখিক নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন।সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের একজন ছুটিতে থাকার অজুহাত দেন এবং অন্যজন একটি অপারেশন শেষ করে এসে ক্লান্তির কথা জানিয়ে বাকি রোগীদের পরদিন আসতে বলেন।
ভুক্তভোগী ওই রোগী দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালের বিভিন্ন টেবিলে এবং চিকিৎসকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো বিশেষজ্ঞ সেবা পাননি। শেষ পর্যন্ত আরএমও’র হস্তক্ষেপে জরুরি বিভাগের একজন আউটসোর্সিং কর্মীকে দিয়ে তার মাইনর সার্জারি সম্পন্ন করা হয়।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত থেকেও কেন সেবা দিলেন না,সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি।
হাসপাতালের আরএমও ডা. রফিকুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে,অনেক সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রশাসনিক নির্দেশনা মানতে চান না। তিনি জানান,সেবা দেওয়া সম্ভব না হলে রোগীদের সকালেই জানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল, এভাবে সারাদিন বসিয়ে রাখা মোটেও কাম্য নয়।
স্থানীয় রোগীদের অভিযোগ,হাসপাতালের চিকিৎসকরা সরকারি ডিউটির চেয়ে বাইরের ক্লিনিকে বা ব্যক্তিগতভাবে অপারেশন করতেই বেশি আগ্রহী।মূলত বাইরে যেতে বাধ্য করার জন্যই হাসপাতালে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রোগীদের হয়রানি করা হয়।এই অব্যবস্থাপনার কারণে সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।