রায়পুর হায়দারগঞ্জে ডাক্তার বিহীন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে
এম এইচ সৌরভ,লক্ষ্মীপুর,জেলা প্রতিনিধি:-লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জে সরকারি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও দীর্ঘ এক যুগ ধরে সেখানে কোনো স্থায়ী এমবিবিএস চিকিৎসক নেই।বিধি অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও দীর্ঘ বছর ধরে পদগুলো শূন্য পড়ে আছে।ফলে প্রান্তিক অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন,যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার ১ নম্বর উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জ বাজারে ১টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে।এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এরিয়া জুড়ে অবস্থিত।এটি উদমারা, চরবংশী,খাশেরহাটসহ প্রায় ১৪-১৫টি গ্রামের ৮৬ হাজার ৬৩৮টি পরিবারের কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসা।কিন্তু গত ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে এখানে কোনো স্থায়ী চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
হায়দরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা বোরহান হোসেন জানান,পরিবারের দুজনকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়েছিলাম,সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো ডাক্তারের দেখা না পেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে,পরে ১২ কিলোমিটার দূরে উপজেলা রায়পুর সদর হাসপাতালে গিয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
হায়দরগঞ্জ বাজারের স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন,"আমরা প্রতিদিন দেখি শত শত অসহায় মানুষ অসুস্থ শরীর নিয়ে কেন্দ্রে এসে ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যায়,অনেকেই টাকার অভাবে শহরে যেতে পারে না,তারা আমাদের দোকান থেকে না বুঝেই ওষুধ কিনে খায়।এই এলাকায় একজন স্থায়ী চিকিৎসক(এমবিবিএস) না থাকায় এখন জীবন-মরণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি।
চরবংশী এলাকার জেলে রহমত আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,"নদীতে মাছ ধরে কোনোমতে দিন চলে।অসুখ হলে হায়দরগঞ্জ কেন্দ্রে যাই, কিন্তু সেখানে ডাক্তার পাই না,বড় হাসপাতালে যাওয়ার ভাড়া জোগাড় করতেই দিন শেষ হয়ে যায়,সরকার যদি এখানে একজন ডাক্তার দিতেন তাহলে আমাদের মতো গরিবদের অনেক উপকার হতো।
হায়দরগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার(সেকমো)শ্রী মানস দে জানান,বিগত ৩ বছর আগে এখানে যোগ দিয়েছেন।নিয়ম অনুযায়ী এখানে একজন এমবিবিএস ডাক্তার এবং একজন ফার্মাসিস্ট থাকার কথা থাকলেও কোনো পদই পূর্ণ নেই। প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ জন রোগী আসলেও একাই সব সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এইদিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর।৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী ভিড় করছেন।১ নম্বর উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাফর উল্লাহ দুলাল বলেন,"দূরত্বের কারণে গরিব মানুষ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারছে না।এক যুগ ধরে একটি কেন্দ্রে ডাক্তার না থাকায় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি,দ্রুত এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থায়ী এমবিবিএস চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.বাহরুল আলমের কাছে দৈনিক শেষ সংবাদ প্রতিনিধি জানতে চাইলে তিনি বলেন,"আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।বর্তমানে সপ্তাহে একদিন একজন এমবিবিএস ডাক্তার পাঠানোর চেষ্টা করছি।স্থায়ী নিয়োগ না থাকায় আমরা সিভিল সার্জনকে প্রতি মাসেই প্রতিবেদন পাঠাচ্ছি।উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলোতে চিকিৎসক না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর রোগীদের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান তিনি।