মধুখালিরতে হলুদের সমারোহ:কৃষি কর্মকর্তার পরিদর্শন
মোঃ আজমল হোসেন,বালিয়াকান্দি রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ-দিগন্তজুড়ে হলুদের সমারোহ: মধুখালির মাঠে বাম্পার ফলনের হাতছানি নতুন বছরের শুরুতেই মধুখালি দিগন্তজোড়া মাঠ সেজেছে এক অপরূপ সাজে।পৌষের হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে যখন ভোরের নরম আলো মাটিতে লুটিয়ে পড়ে,তখন সরিষা ক্ষেতগুলো যেন জ্বলে ওঠে এক অনন্য দীপ্তিতে।
যেদিকে চোখ যায়,মনে হয় প্রকৃতি পরম মমতায় বিছিয়ে দিয়েছে এক বিশাল হলুদ গালিচা।সরিষা ফুলের এই সোনালি আভা আর মৌ-মৌ গন্ধে কৃষকের মনেও দোলা দিচ্ছে বাম্পার ফলনের রঙিন স্বপ্ন।
সরেজমিনে গাজনা ইউনিয়নের মধুরাপুর ব্লকের ভাটিকান্দি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর শেখের প্যাটান ভিত্তিক তেলজাতীয় ফসলের ক্ষেত পরিদর্শনে যান মধুখালি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মাহাবুব এলাহী ভাটিকান্দি বিলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় এক মনোরম দৃশ্য।বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বাতাসের তালে দোল খাচ্ছে সরিষার ফুল। কোথাও ফুল ফুটেছে পূর্ণ যৌবনে,আবার কোথাও ধরতে শুরু করেছে ফল।
প্রকৃতির এই নান্দনিক রূপ উপভোগ করতে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সরিষা ক্ষেতগুলোতে ভিড় করছেন নানা বয়সী দর্শনার্থী। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলতে কেউ হারিয়ে যাচ্ছেন হলুদ সমুদ্রে,কেউবা মুঠোফোনে ছবি তুলে কিংবা লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে সেই সৌন্দর্য ভাগ করে নিচ্ছেন বন্ধুদের সঙ্গে।সব মিলিয়ে গ্রামীণ জনপদে এখন বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর প্রাণচাঞ্চল্য।
স্বল্প খরচ ও পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় সরিষা চাষে ঝুঁকছেন জেলার কৃষকরা।মধুখালি উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর শেখ বলেন,“দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি।খরচ ও পরিশ্রম দুটোই কম,তাই এটি আমাদের জন্য বেশ লাভজনক। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন এবারের আবহাওয়া দেখে মনে হচ্ছে ফলন গতবারের চেয়েও ভালো হবে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আজিজুল হক বলেন,আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার জেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। শীতের সকালে শিশিরভেজা সরিষা ফুলের এই সোনালি হাসি শুধু মাঠের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি,বরং নতুন বছরে কৃষকের চোখে বুনে দিয়েছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও নতুন দিনের আশার আলো।