নওগাঁয় পাঁচটি আসনে বিএনপি,একটি আসনে জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন
মো:এ কে নোমান,নওগাঁ প্রতিনিধি:-ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে নওগাঁ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।ঘোষিত ফলাফলে পাঁচটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)এবং একটি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী(জামায়াত)প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।একই সঙ্গে জেলার সব আসনেই গণভোটে‘হ্যাঁ’ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।
শুক্রবার(১৩ ফেব্রুয়ারি)রাত দেড়টার দিকে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে একে একে বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে নওগাঁ-২(পত্নীতলা ও ধামইরহাট)আসনে জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক বিজয়ী হন।অপর পাঁচটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা জয়লাভ করেন।
নওগাঁ-১(পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট।এ আসনে গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়ে ২ লাখ ২০ হাজার ৬৮৯ টি এবং না ভোট পড়ে ১ লাখ ৬ হাজার ১৬ টি।
নওগাঁ-২(পত্নীতলা ও ধামইরহাট)আসনে তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির সামসুজ্জোহা খানকে পরাজিত করে বিজয়ী হন জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক।তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট, আর সামসুজ্জোহা খান পান ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩ ভোট।এ আসনে গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়ে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৩২টি এবং না ভোট পড়ে ৮৯ হাজার ৫৫৪টি।
নওগাঁ-৩(বদলগাছী ও মহাদেবপুর)আসনে বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা মাহফুজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩ ভোট।এখানে গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়ে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫০১টি এবং না ভোট পড়ে ৯১ হাজার ৫৭০ টি।
নওগাঁ-৪(মান্দা)আসনে জামায়াতের জেলা আমির আব্দুর রাকিবকে পরাজিত করে বিএনপির প্রার্থী ইকরামুল বারি টিপু বিজয়ী হন।তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯২৪ ভোট পান। আব্দুর রাকিব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৯৭ হাজার ৫৮৫ ভোট।এ আসনে গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়ে ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৭৬টি এবং না ভোট পড়ে ৬৮ হাজার ৩৯৩টি।
নওগাঁ-৫(সদর)আসনে বিএনপির জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।জামায়াতের প্রার্থী আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ৩ হাজার ২৩৬ ভোট।এ আসনে গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়ে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৮৪ টি এবং না ভোট পড়ে ৫৩ হাজার ১২৬ টি।
নওগাঁ-৬(আত্রাই ও রানীনগর)আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ৭০ ভোট পেয়ে জয়ী হন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৯৫ হাজার ৮৮৬ ভোট।একই আসনে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে পান ১৯ হাজার ৪৯০ ভোট।এখানে গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ১৭৬টি এবং না ভোট পড়ে ৫৮ হাজার ২৯১টি।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,জেলার ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।বর্তমানে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
জেলায় ছয়টি আসনে বিএনপি,জামায়াত, স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন।এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন,নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২১ জন।সব মিলিয়ে জেলায় ভোট প্রদানের হার ছিল ৭৫ দশমিক ২৭ শতাংশ।