শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া খুলনাঃ
রঙ্গিন ফুলকপি ও বাধাকপি উচ্চফলনশীল সবজি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় চাষাবাদ হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বরাতিয়া গ্রামের কৃষক তাপস সরকার ও বিজয়া সরকার তাদের ১০ শতক জমিতে এবার পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবারের মতো রঙিন ফুলকপি (বেগুনি, হলুদ ব্রোকাল ওক্যারোটিনা জাতের) চাষ করে সফলতা পেয়েছে স্থানীয় কৃষকরা। ভালো ফলনের পাশাপাশি ফুলকপির ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে।
ফলে রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় সবজি চাষিরা। রঙিন ফুলকপির সাফল্যে খুশি স্থানীয় কৃষি বিভাগও।
ডুমুরিয়া অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প হতে, ফুলকপির বীজ, রাসয়নিক সার, জৈব সার, জৈব বালাইনাশক, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।` খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় রঙ্গিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ওয়ালিদ হোসেন বলেন এটি স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়ায় চাষে কতটা উপযোগী বা কেমন ফলন হয় আমরা দেখতে চেয়েছি। আমরা সফল হয়েছি, বলেন তিনি।
প্রকল্জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি সবজির পাশাপাশি সালাদ হিসেবেও খাওয়া হয়। সাদা ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপিতে পুষ্টিগুণ বেশি। দেখতেও সুন্দর।
আর আমাদের স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদার পাশাপাশি আশেপাশের অন্যান্য কৃষক এই রঙ্গিন ফুলকপি চাষে ব্যপক আগ্রহ প্রকাশ করছে।
তিনি আরো বলেন, সাধারণ ফুলকপি চাষের যে পদ্ধতি ওই একই পদ্ধতিতে রঙিন ফুলকপি চাষ হয়। খরচ ও পরিশ্রম একই। শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এই ফুলকপি চাষ করা যায়।
এইদিকে কৃষক বিজয়া সরকার আমাদের ডুমুরিয়া খুলনা প্রতিনিধি শেখ মাহতাব হোসেনকে বলেন, বাজারে সাদা ফুলকপি যেখানে ১০ থেকে ১৫টাকা। সেখানে এ রঙ্গিন ফুলকপি ৭০-৮০টাকায় বিক্রি করতে পারছি। এতে আমি ব্যাপক খুশি এবং আগামী মৌসুম থেকে আমি এই রঙ্গিন ফুলকপি আবাদ করবো।
এব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, ‘এগুলো জাপানি জাতে ফুল কপি। আমাদের দেশে মাত্র দুই বছর আগে আবাদ শুরু হয়। ডুমুরিয়াতে সাধারণ সাদা কপিই চাষ হয়, এবারই প্রথম এই রঙিন কপি চাষ করা হয়েছে। আগামীতে কেউ যদি এমন রঙিন কপি আবাদ করতে চান তাহলে কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগি দেওয়া হবে।