সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মাধবপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকে অনিয়মের প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি বালিয়াকান্দিতে জমি বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় আশালতা হাসপাতালে সাপাহারে প্রশাসনের নাকের ডগার উপরে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্দর পতেঙ্গা সাংবাদিক সোসাইটির ঈদ পূর্ণমিলনী মনসুরাবাদ পুলিশ লাইন্স পরিদর্শন করেন:সিএমপি কমিশনার ‎যাদুকাটা নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যাপরোয়া  মালেক বাহিনী তেল ও নিত্যপণ্যের দাম না বাড়ানোর আহ্বান সরকারকে:পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নরসিংদীতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে গোসল না করায় মারধর শিক্ষক গ্রেফতার জোর করে বসতবাড়ির জমিতে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মাধবপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে অনিয়মের অভিযোগ জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে

জোর করে বসতবাড়ির জমিতে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৭ Time View

জোর করে বসতবাড়ির জমিতে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিনিধি:-নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় ব্যক্তিমালিকানাধীন বসতবাড়ির জমি দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তার সাব-কন্ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে।সম্পত্তি রক্ষায় প্রতিকার না পেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন ভুক্তভোগী তিনটি পরিবার।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী জানা যায়,উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাইলাটি গ্রামের গণকাপাড়া এলাকায় বিবাদী বিশ্বজিত প্রসাদ(প্রোপাইটর, মেসার্স প্রসাদ এন্টারপ্রাইজ)এবং তার সাব-কন্ট্রাক্টর লিটন মিয়া রাস্তা নির্মাণের কাজ চলাকালে বাদীদের বসতবাড়ির জায়গার উপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রাস্তার জন্য নির্ধারিত স্থান(হালট বা গোপাট)বাদীদের জমির পাশেই রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়,মাত্র ২৭ শতক জমির উপর তিনটি পরিবারের সদস্যরা বসবাস করছেন। সেখানে তিন ভাই,তাদের মা ও এক বোনসহ পরিবারগুলোর বসতভিটা রয়েছে বলে জানাই। সেই বসতভিটার জমির উপর দিয়েই পাকা রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি,বিবাদীরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং পেশিশক্তি ব্যবহারের ভয় দেখানোয় তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।ফলে সম্পত্তি রক্ষায় নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।তাদের মতে,সরকারি জায়গা থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে রাস্তার প্রকল্প করা রহস্যজনক।উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি জবরদখল এটা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান তারা।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কের পাকাকরণ কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা।কাজটি করছে ময়মনসিংহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান‘প্রসাদ এন্টারপ্রাইজ’নামের একটি প্রতিষ্ঠান।স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ তদারকি করছেন লিটন মিয়া।ইতোমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে রাস্তাটির।

অভিযোগ রয়েছে,সাব-কন্ট্রাক্টর লিটন মিয়ার সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের পূর্ব থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে বিরোধ ছিল।তাই তিনি প্রকল্পের নামে প্রভাব খাটিয়ে তাদের ব্যক্তিগত জমির উপর দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণের পাঁয়তারা করছেন এবং বাধা দিলে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য সামান্য জায়গা রেখে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের জমির সীমানায় বাঁশের বেড়া দিয়ে রেখেছেন।তাদের দাবি,লিটন মিয়া বহিরাগত লোক এনে জোরপূর্বক মাটি কাটার চেষ্টা করেছেন।
প্রতিবেশী ফারুক মিয়া বলেন,শুধু মুমরুজ আলী, মজিবুরের পরিবার নয়,আরও অনেকের ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছে এলজিইডি।মুমরুজ আলী প্রতিবাদ করে বলেন,সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হালটের জায়গা দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলে কোনো সমস্যা থাকবে না।

ভুক্তভোগী মুমরুজ আলী বলেন,আমরা রাস্তার বিরোধী নই,তবে আগেও আমাদের জায়গার ওপর দিয়ে মানুষ চলাচল করত।তবে স্থায়ী পাকা রাস্তা হালটের জায়গা দিয়েই নির্মাণ করা হোক। আমাদের রেকর্ডকৃত জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই উক্ত বিষয়টি নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ও পৃর্বধলা উপজেলা প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন ভোক্তভোগী পরিবাররা।

অভিযোগের বিষয়ে সাব-কন্ট্রাক্টর লিটন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ভিত্তিহীন।এলজিইডির প্রকল্প অনুযায়ী যেখানে আগে থেকেই রাস্তা ছিল, সেখান দিয়েই কাজ করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক দত্তের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত।ব্যক্তিগত জমির বিষয়টি থাকলে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।তবে এলজিইডির পক্ষে মাটি ভরাট করে বা নতুন ভাবে রাস্তা নির্মানের কোন সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।

উক্ত বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ মোঃ মাসুম মোস্তফার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।যাতে করে কারও প্রতি কোন অবিচার না হয় এবং আইনের কোন লঙ্ঘন না হয় বলে তিনি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category