চান্দিনায় ভিডিও ধারণে দুই সাংবাদিককে আটক করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটে
চান্দিনা উপজেলা প্রতিনিধি:-আইনের ধারা প্রশ্নে বিতর্ক—ভিডিও করা কি অপরাধ,না অতিরিক্ত বল প্রয়োগ?কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সহকারী কমিশনার(ভূমি)ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে দুই সাংবাদিককে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে আটক করার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনাকে অনেকেই ক্ষমতার প্রদর্শন ও প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসনিক আচরণ হিসেবে দেখছেন।সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে,যেখানে সাংবাদিকদের জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের অধিকার স্বীকৃত।এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—শুধু ভিডিও ধারণ করা কি কোনো অপরাধ?আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,যদি কেউ সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন,তবে দণ্ডবিধির ধারা ১৮৬ প্রযোজ্য হতে পারে।একইভাবে,সরকারি কর্মকর্তার ওপর আক্রমণ বা বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে ধারা ৩৫৩ প্রযোজ্য।তবে এসব অভিযোগ প্রমাণ সাপেক্ষ এবং পরিস্থিতি বিবেচনাসাপেক্ষ।অন্যদিকে,ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ অনুযায়ী গ্রেপ্তারের সময় অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ।এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী,হ্যান্ডকাপ ব্যবহার কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে—যেমন আসামির পালানোর সম্ভাবনা বা সহিংস আচরণের ঝুঁকি থাকলে—প্রয়োগ করা যেতে পারে।
এ ঘটনায় মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে,আটক দুই সাংবাদিক কি এমন কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন,যার জন্য হ্যান্ডকাপ ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল?নাকি এটি ছিল ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রয়োগ?সচেতন মহল বলছে,সাংবাদিকরা যদি সত্যিই আইন ভঙ্গ করে থাকেন,তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তবে তারা নির্দোষ হলে,এই ধরনের আচরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।কারণ,আইনের শাসনের মূল ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা—কোনোভাবেই ক্ষমতার অপব্যবহার নয়।