কর্নফুলীর ফ্রেন্ডস ব্লাড ডোনার ফোরামের একজন ‘রক্তযোদ্ধা’ওয়াসিম উদ্দীন
বাবলু বড়ুয়া,ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম:-কর্নফুলী ফ্রেন্ডস ব্লাড ডোনার ফোরামের একজন ‘রক্তযোদ্ধা’ওয়াসিম উদ্দীন রানা না বলা গল্প।
বছরের পর বছর স্বেচ্ছায় মুমূর্ষু রোগীদের নিয়মিত রক্ত দান করে মানবতার সেবায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কর্ণফুলী জুলধা ইউনিয়নের ওয়াসিম। এই পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ব্যাগ রক্ত দিয়ে মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচিয়ে তোলার কাজে এগিয়ে এসেছেন।এখানেই তিনি থেমে থাকেননি।এলাকার ভাই-বোন ও বন্ধু-বান্ধবকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন কর্ণফুলী ফ্রেন্ডস ব্লাড ডোনার ফোরাম নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন জেলার মানুষ বিনামূল্যে রক্ত পাচ্ছেন এখান থেকে।মোঃ ওয়াসিম উদ্দীন রানা একজন রক্তযোদ্ধা।তিনি নিয়মিত রক্তদাতা ও রক্তের যোগানদাতা,ওনি এই পর্যন্ত ২৬ তম বারের মতো রক্ত দান করেছেন।রক্তের প্রয়োজন,এমন কথা শুনলে সে অস্থির হয়ে যায়,রক্ত জোগাড় করে দিতে।পরিবারের খুব পরিশ্রমী ছেলে।বিভিন্নভাবে দক্ষতা ও সফলতা দেখিয়েছেন।নিজের এলাকায় তিনি সবাইকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে গড়ে তুলেছেন, জুলধায় ওনাকে সবাই খুব পছন্দ করে।অন্যকে সাহায্য করতে কথনো দ্বিতীয়বার চিন্তা করেন না এই ওয়াসিম।(মানুষের রক্ত দানে লাল ভালোবাসা বিলিয়ে শান্তি পান ওয়াসিম)।

চট্টগ্রাম শহরের কর্ণফুলী উপজেলা জুলধা ৫ নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ কানু মাতব্বর পাড়ার মৃত মোঃ আলীর ছোট ছেলে মোঃ ওয়াসিম উদ্দীন রানা স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলেন।তিনি মরিয়ম আশ্রম উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। একই সঙ্গে’কর্ণফুলী ফ্রেন্ডস ব্লাড ডোনার ফোরাম নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।কারো রক্তের প্রয়োজন পড়লে ওয়াসিম সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকেন রক্ত যোগাড় করে দিতে।তিনি তার সংগঠনে গঠন তন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালিত করেন সংগঠনে কার্যক্রম।তার অধীনে শতাধিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ রয়েছে তার সংগঠনে কাজ করছেন।সেখানে নিকটাত্মীয়-স্বজন,বন্ধু এমনকি পরিচিতজনদের রক্তের গ্রুপ মোবাইল নম্বরসহ অসংখ্য মানুষের নাম রয়েছে।কারও রক্ত লাগলে ওয়াসিমের সঙ্গে মোবাইলে ফোনের মাধ্যমে ডোনারের সাথে যোগাযোগ করেন।ওয়াসিম তাৎক্ষণিক ওই ব্যক্তিকে কোনো টাকা ছাড়াই নিঃস্বার্থভাবে রক্ত জোগাড় করে দেবেন বলে জানা যায়।মো:ওয়াসিম উদ্দীন রানা জানান,আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য স্বেচ্ছায় কাজ করে থাকি নিঃস্বার্থভাবে।মানুষ যখন খুব বিপদে পড়ে প্রথম অন্য কারো শরণাপন্ন হয়।বিশেষ করে যখন রক্তের প্রয়োজন হয়,তখন মানুষ দিশাহারা হয়ে ওঠে।কোথায় পাবে,কীভাবে পাবে,তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে রক্ত পাওয়া যাবে?সেই চিন্তা যেন তখন আকাশ সমান হয়ে দাঁড়ায়।এরই মধ্যে একটি অন্যরকম অনুভূতি হয় তখন,যখন কারও বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারি।রক্তের পোষ্ট বা মেসেজ গেলেই সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করি রক্ত জোগাড় করে দিতে।যখন রক্ত জোগাড় করে নিই এখন রক্ত গ্রহীতা ও তার আত্মীয়-স্বজনেস্বজনে হাসি মুখ দেখতে পাই।তখনকার অনুভূতি বোঝানোর মতো নয়।রক্ত জোগাড় করে দিলে মনের প্রশান্তি কাজ করে।কারোর মুখে হাসি ফোঁটাতে পারার আনন্দ আসলেই অন্যরকম বলে জানান তিনি।