শ্রীপুরে ২৪ ঘণ্টায় নারী হত্যার রহস্য উদঘাটন,আসামি গ্রেফতার
শেখ সেলিম রেজা,বার্তা-বিভাগ)দৈনিক শেষ সংবাদ:-গাজীপুরের শ্রীপুরে গার্মেন্টসশ্রমিক সুমা আক্তার (২৫) হত্যা মামলার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ঘাটন করেছে শ্রীপুর মডেল থানার পুলিশ।
উক্ত এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই মতিউর রহমান নিহত সুমার সহকর্মী এবং প্রেমিক মো.রাসেল(২৪)কে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শ্রীপুর থানার গোসিংগা ইউনিয়নের পাচুলটিয়ার গুপ্তবাইদ এলাকার গাজারি বাগান থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।লাশটি বিকৃত অবস্থায় ছিল—মাথার বাম দিকে আঘাত,নাক-কান থেকে রক্তপাত,বোরকা ও পোশাকে আগুনে পোড়া দাগ এবং গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল।ডান পায়ের মাংস ক্ষয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরে পিবিআইয়ের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিহত নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়—তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের বাসিন্দা সুমা আক্তার। সুমা বৈরাগীর চালার’ঢাকা গার্মেন্টস’-এ কাজ করতেন এবং কেওয়া এলাকার ফখরুদ্দিন মোড়ের কাছে ভাড়া থাকতেন।প্রথম ও দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে বিরোধের কারণে তিনি একাই থাকতেন।
পরদিন সুমার মা মমতা বেগম শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ সুপার মো.শরিফ উদ্দীনের নির্দেশে এবং কালিয়াকৈর-শ্রীপুর সার্কেলের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে শ্রীপুর থানা পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে।প্রযুক্তি ও মাঠ-তদন্তের সমন্বয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যারহস্য উদ্ঘাটন করে আসামি মো.রাসেল-কে গ্রেপ্তার করা হয়।রাসেল শ্রীপুরের পাচুলটিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং নিহত সুমার সহকর্মী।
জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল পুলিশকে জানান,একই গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।সুমা বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।গত ৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে রাসেল সুমাকে নিয়ে গুপ্তবাইদ গাজারি বাগানে যায়।সেখানেই কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে সুমাকে হত্যা করে।হত্যার পর লাশ ফেলে রেখে সে পালিয়ে যায়।তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান,ঘটনাটি পুরোপুরি ক্লুলেস (সূত্রবিহীন)থাকলেও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গভীর মাঠ-তদন্তের মাধ্যমে অল্প সময়েই আসামিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।
কালিয়াকৈর-শ্রীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেরাজুল ইসলাম বলেন,”নিহত নারীর পরিচয় পাওয়া ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা প্রতিটি সম্ভাব্য সূত্র অনুসরণ করি। হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য,ঘটনার সময় ও পদ্ধতি—সব কিছুই এখন পরিষ্কার। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।