শ্রীপুরে বিদ্যালয়ের প্রতারণা মামলায় সাময়িক বরখাস্ত হলেন সহকারী শিক্ষিকা
মোঃ এনামুল হক স্টাফ রিপোর্টর:
জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলার ওয়ারেন্ট ভোক্ত আসামি হওয়ায়, সরকারী চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত হলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা, ফারজানা ইয়াসমিন। গত ১৯ ডিসেম্বর গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে শিক্ষা অফিসার মোঃ মাসুদ ভুঁইয়ার পাঠানো ১৭৯০(৬)নং স্মারক মূলে অফিস আদেশে বলা হয় । সহকারী শিক্ষক জনাবা, ফারজানা ইয়াসমিন এর বিরুদ্ধে রুজুকৃত সি.আর মামলা নং -১৮৭৩/২০২২ এর কারনে, গত ২১-০৯-২০২৩ তারিখে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি ওয়ারেন্ট জারী করা হলে, তিনি ২৫-০৯-২০২৩ তারিখে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১ গাজীপুরে আত্মসমর্পণপূর্বক ছয় সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন প্রাপ্ত হন । এই মর্মে শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার, কর্তৃক ২০ নভেম্বর ২৩ তারিখে ৮৫৭ নং স্মারকের প্রেরিত প্রতিবেদনমূলে জানা যায়। দাখিলকৃত প্রতিবেদন ও মামলার বর্ণনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষকের আচরণ ও কার্যক্রম সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ৩৯(২)ধারার পর্যায়ভুক্ত অপরাধ বিধায়, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক জনাবা ফারজানা ইয়াসমিনকে সরকারি চাকরির আইন মোতাবেক জামিন প্রাপ্তির তারিখ অর্থাৎ ২৫-০৯-২০২৩ তারিখ থেকে সরকারি চাকরি হইতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অফিস আদেশে আরও বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি প্রচলিত বিধি মুতাবেক খোরাকি ভাতা (subsistence Allowance) প্রাপ্য হবেন। এবিষয়ে অভিযোক্ত শিক্ষিকা ফারজানা ইয়াসমিনের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু শিক্ষিকা ফারজানা ইয়াসমিনের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে, শ্রীপুর উপজেলার, টেংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ওমর ফারুক বলেন, সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা ইয়াসমিন তার সাবেক স্বামী, রাশেদুল হাসানের ক্রয়কৃতজমির উপর নির্মিত বাড়ি জোরপূর্বক দখল করে। এবং ঐ বাড়ির আটটি বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে,শুধুতাইনয় নিজের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে পুনরায় ওই বাড়িতে আটটি মিটার স্থাপন করে। পরে ঐ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আদালতে জাল জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলা করেন তার সাবেক স্বামী রাশেদুল হাসান। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে তার বিরুদ্ধে গত ২১ -৯-২৩ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। বিষয়টি রাশেদুল হাসান ঊর্ধ্বতন কে জানালে আমার উপরে চড়াও হয় এবং হামলা ও মামলার হুমকি প্রদান করে । পরবর্তীতে রাশেদুল হাসান উপজেলা নির্বাহি অফিসার বরাবরও বিষয়টি লিখিত আকারে জানিয়েছেন। বরখাস্তের বিষয়ে টেংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি, জাহাঙ্গীর আলম জানায়,শিক্ষিকা ফারজানা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে, ওনি এই বিষয়টি জানতে পেরে স্কুল থেকে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে চলে যান। ডি বি ও শ্রীপুর থানা পুলিশ উনাকে কোথাও খুঁজে পাই নাই। উনি এই বিষয়টি সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার, প্রধান শিক্ষক, এবং সভাপতি কাউকে না জানিয়ে তথ্য গোপন করেন। তারপর গত ২৪-০৯-২০২৩ তারিখে একজন অটোচালকের মাধ্যমে অন্যের লেখা ও সাক্ষরে একটি ছুটির দরখাস্ত বিদ্যালয়ে পাঠান। পরবর্তীতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব আকরাম হোসাইন বিষয়টি জানতে পেরে ওই দিনই বিদ্যালয়ে আসেন এবং দরখাস্তটি অন্যের স্বাক্ষরে পাঠানো ও তথ্য গোপনের জন্য তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে পরিদর্শন খাতায় উল্লেখিত বিষয় লিপিবদ্ধ করেন। পরে গত ২৬-১০-২০২৩ তারিখে শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে এসে সভাপতি, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে গালিগালাজ সহ নানা হুমকি প্রদান করেন। এবিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন জানিয়েছেন,টেংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা ইয়াসমিনের সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার চিঠি পেয়েছি, এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই হবে। এবিষয়ে আমার বলার কিছু নেই। সহকারী শিক্ষিকা কর্তৃক প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেয়ার কোন অভিযোগ আমার জানা নেই।