মাসুদ পারভেজঃ- সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা নেত্রী পরিচয়ে দিয়ে ১ বছর যাবত অন্যর ঘের জবর দখল করে নিয়েছে শাহানারা খাতুন নামে এক ভূয়া নেত্রী। সেই ঘেরের বাসায় আগুন দিয়ে খোদ ঘের মালিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার ও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে । ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নে। কখনো জেলা আওয়ামীলীগের নেত্রী কখনো সাংবাদিক পরিচয় দান কারী ওই মহিলা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মধুমল্লার ডাংগীর শহিদুল ইসলামের মেয়ে শাহানারা খাতুন (৩৫)। অনুসন্ধানে ও স্থানীয়দের মাধ্যমে জানাযায়, শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া বিলে ৪২ বিঘা জমিতে দীর্ঘ ২২ বছর যাবত মাছের ঘের পরিচালনা করে আসছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের সৈয়দ আলি আফছারের ছেলে জাকির হোসেন। গত ৭ মাস আগে পাওনা টাকার অজুহাত দিয়ে জাকিরের ঘের দখল করে নেয় শাহানারা । দখল করে শাহানারা কয়েক জন মহিলা ও ১০-১২ জন পুরুষ নিয়ে ওই ঘেরে থাকতে আরম্ভ করেন। এসময় ঘের মালিক জাকিরকে শাহানারা ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে তার দখলকৃত ঘেরের ভেতরে প্রবেশ করলে ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা মামলা দিবে তার নামে।যে কথা সেই কাজ গত ২৫ অক্টোবর ধান ও মাছ লুট করার অভিযোগে এনে জাকিরসহ ৬ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন শাহানারা খাতুন। যাহার নং (৬২২/২৩)। পরবর্তীতে তদন্ত কারী কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে মিথ্যা মামলা থেকে অভিযুক্তদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালতের কাছে আবেদন করেন। সর্বশেষ গত ৮ ডিসেম্বর বিকালে জাকির তার কর্মচারী মাসুদকে নিয়ে ওই ঘেরের ভেতরে প্রবেশ করে।এসময় শাহানার তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে তাদেরকে ব্যাপক মারধর করে। পরবর্তীতে গত ১৩ ডিসেম্বর জাকির হোসেনের পিতা আলি আফছার বাদী হয়ে শাহানারাসহ ৫ জনকে আসামি করে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে (যাহার নম্বর- ১৪)। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে শাহানারা মামলার বাদীকে আবার ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য ১৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে তার জবর দখলকৃত ঘেরের বাসায় পরিকল্পিত ভাবে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া তিনটি পয়েন্ট বিষ প্রয়োগ করে গত ১৭ ডিসেম্বর জাকির ও তার পিতাসহ ৭ জনকে আসামি করে থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন ( যাহার নং ১৭)।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মৎস্য ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন,আশাশুনি উপজেলার জনৈক ইমরান নামে এক ব্যক্তির সাথে ১ বছরের জন্য ৯ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ঘেরের অংশীদারিত্ব নিয়ে তার সাথে চুক্তি হয়। কিন্তু ইমরান তাকে ১ লক্ষ ৮ চল্লিশ হাজার টাকা পরিশোধ করে । বাকি টাকা পরিশোধ না করেই আওয়ামীলীগের নেত্রী পরিচয় দানকারী ভূমিদস্যু শাহানারা পারভীনকে দিয়ে তার ঘের জবর দখল করে নেয় ইমরান। দখলের পর থেকে প্রতিনিয়ত তার ঘেরের মাছ লুটপাট করে খাচ্ছে শাহানারা । শুধু মাছ লুটপাট করে থেমে নেই তারা একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকেসহ পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করে যাচ্ছে দখল কারী ভূমিদস্যু শাহানারা। বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য শাহানারা খাতুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ইমরানের কাছ থেকে অংশীদারিত্ব কিনে নিয়ে প্রায় ১ বছর বৈধ ভাবে ওই ঘের দখল করেছেন। ঘের দখলের আগে তাদের নামে জাকির দুইটি মিথ্যা মামলা দিয়ে ছিলেন। এজন্য তিনি রাগের বসবর্তী হয়ে ওই ঘের দখল করে রেখেছেন।ঘেরের বাসায় আগুন লাগিয়ে জাকিরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।