লালপুর নাটোর প্রতিনিধি :: নাটোরের লালপুর উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের কামারহাটি তেনাচোরা গ্রামে দুবাই প্রবাসী সোহানুর রহমানের নিজ বাড়িতে তাঁর স্ত্রী শিউলি বেগমের মামা পরিচয়ে ৩ রাত্রী যাপন শেষে শিউলি বেগমের মৃত্যু ও মৃত্যুর পরে মামা উধাও হওয়ার ঘটনায় সেই মামা জাকির হোসেন (৩৫)কে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঐ দিন(২৯শে জুন-২৪) রাতেই বাগাতিপাড়া উপজেলার মাড়িয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বাগাতিপাড়া মডেল থানা পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার(৩০শে জুন-২৪) দুপুরে নাটোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং করেন নাটোর জেলার পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে পুলিশ সুপার সংবাদ কর্মীদের মাঝে এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে জানান, শনিবার(২৯ জুন) সকালে উপজেলার কামারহাটি তেনাচোরা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে শিউলি বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় আসামি জাকির হোসেন(৩৫)কে আটক করা হয়।আটককৃত জাকির হোসেন (৩৫) সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার গচিয়া এলাকার বিলাল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সুপার আরও জানান,দুবাই প্রবাসী সোহানুর রহমান শুভর স্ত্রী শিউলি খাতুন(২৩) প্রায় ১ মাস আগে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী তার বোন সোনালী খাতুনের ভাড়া বাসায় বেড়াতে যায়। সেখানে আসামি জাকির হোসেনের সঙ্গে পরিচয় এবং সাক্ষাৎ হয়।
পরবর্তীতে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের।এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুন-২৪ জাকির হোসেন পরকীয়া প্রেমের সূত্র ধরে গাজীপুর থেকে ট্রেনযোগে নাটোরের লালপুরে শিউলি বেগমের বাড়িতে মামা পরিচয়ে বেড়াতে আসে।শিউলি বেগমের বাড়িতে অবস্থান কালে তার সঙ্গে টাকা পয়সাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়।এ নিয়ে দু’জনের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আসামি জাকির শিউলির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম লালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সুপার আরও জানান,পরে নাটোর জেলা পুলিশের অফিসার-ফোর্সের সমন্বয়ে গঠিত দল যৌথ অভিযান পরিচালনা করে শনিবার রাতেই আসামি জাকির হোসেনকে বাগাতিপাড়া উপজেলার মাড়িয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে এক জোড়া রুপার নুপুর,একটি স্বর্ণের চেইন, একটি স্বর্ণের নাকফুল,একজোড়া কানের দুল এবং রুপার একটি আংটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত জাকির ঘটনার বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।