লামা(বান্দরবান) প্রতিনিধি :: লামা উপজেলার দুর্গম ইউনিয়ন গজালিয়া ৩০২ নং লুলাইং মৌজা হেডম্যান সিংপাশ চৌধুরী বিরুদ্ধে নানা অপকর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই মৌজার হেডম্যান এলাকার সাধারণ মানুষকে নানান ভাবে অত্যাচার নিপিড়ন করায় হেডম্যানের পদ থেকে অব্যহতি ও প্রতিকার চেয়েছেন গ্রাম প্রধান ও সাধারণ মানুষ।৩০২নং লুলাইং মৌজা হেডম্যান সিংপাশ চৌধুরী ৩০টি গ্রামের মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও অত্যাচার করে আসছিলেন।
পাড়াবাসীদের কাছ থেকে জোরপূর্বকভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে জায়গাজমি,দোকান প্লট অবৈধভাবে দখল,পাড়ার জন্য সংরক্ষিত গাছ ও বাঁশের প্লট বিক্রয় করে দেওয়া সহ অসামাজিক কার্যকলাপ, ক্ষমতা অপব্যবহারের পাশপাশি বিভিন্ন অপকর্মে অভিযোগ আছে হেডম্যান বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, মোটা অংকের টাকা নিয়ে পাড়ার প্রধান কারবারী একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে ( মাই ম্যান) নিয়োগ বানিজ্যসহ দীর্ঘ বছর ধরে পাড়া ও গ্রামবাসীদের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি, বেপোরোয়া ভাবে অন্যায়, অত্যাচার, মোটা অংকে ঘুষ আদান-প্রদান,পূর্বের হেডম্যানের নিয়োগকৃত গ্রাম প্রধান বা কারবারিদের বেতন ভাতা বন্ধ রাখা সহ পাহাড় সমান নানা অভিযোগ হেডম্যানের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ৩০২নং লুলাইং মৌজায় ২০১২ সালে হেডম্যানের নিয়োগ পান সিংপাশ চৌধুরী এরপর থেকে ১২ বছর ধরে হেডম্যান দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন। মৌজা হেডম্যান নিয়োগ হবার পর তিনি গত ১২ বছর ধরে নিজের মৌজায় ৩০টি গ্রামের সাধারণ মানুষকে জিম্মায় রেখে আসছিলেন।
কিন্তু গ্রামবাসীরা বলতে সাহস না পেলেও এক পর্যায়ের ৩০টি গ্রাম মিলিত হন বিচার পাওয়ার দাবীতে। তার এই অপরাধমূলক অপকর্মে লিপ্ত থাকায় মৌজাবাসী অতিষ্ট হয়ে হেডম্যান অব্যাহতি দাবীও চেয়েছেন গ্রামবাসীরা। অভিযোগকারীরা হলো- ১. মেনসিং মুরুং ২.নিপিউ মুরুং ৩. রিংরাও মুরুং ৪. সিংওয়াই মুরুং ৫. মেনওয়ই মুরুং ৬. নিঙয়ই মুরুং ৭. চংরেইং মুরুং ৮.পাইয়া মুরুং ৯. মেনচং মুরুং ও ১০. কাইংপ্রে মুরুং সহ অরও ৩০/৪০ জন।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, হেডম্যান সিংপাশ চৌধুরী দীর্ঘ বছর ধরে গ্রামবাসীদের অত্যাচার করে আসছিলেন। জায়গা দখল, টাকা ঘুষসহ নানা অপকর্ম করে গ্রামবাসীদের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি তৈরি করেছিল। এসব কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা পেতে তার বিরুদ্ধে সুস্থ তদন্ত,উপযুক্ত শাস্তি ও যথাযথ আইনী ব্যবস্হা গ্রহন করা পাশাপাশি হেডম্যানের পদ থেকে অপসারণ বা অব্যহতি ও প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক ও বোমাং সার্কেল বান্দরবান, নিকট বিগত ০৫/০১ /২০২৩ সালে অভিযোগ দাখিল করা হয়।
এই সব অভিযোগ বিষয়ে হেডম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে অস্বীকার করেন ৩০২নং মৌজা হেডম্যান সিংপাশ চৌধুরী । তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধের জেলা প্রশাসক, বরাবরে অভিযোগগুলো সম্পূর্ন মিথ্যা বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক করা হয়েছে।