নিজস্ব প্রতিনিধি: নাংলা ঘোনাপাড়া রহমানিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ চেয়ে সুপারকে পত্র দিয়েছেন দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবর রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রæয়ারী) তারিখে এক লিখিত পত্রে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে এ পদত্যাগ পত্র দেন তিনি। এর আগে শিক্ষার্থী নয় এমন এবং একই ছাত্রীদের দিয়ে বার বার পরীক্ষা দিয়ে এমন জালিয়াতি করে এমপিও ছাড় সহ অপকর্মের বিষয়ে স্থানীয় সামছুর রহমান নামের এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি অনুসন্ধান পরবর্তী বিভিন্ন পত্রিকায় একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাাহী অফিসার ওই প্রতিষ্ঠানের সুপারকে তলব করেন। সেই সাথে মাদ্রাসার সুপার আবুল বাশারকে ১৮ পরীক্ষার্থীর কাগজপত্র দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। এরই মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান ওই মাদ্রাসার সভাপতি পদে অব্যহতি পত্র জমা দিয়েছেন।
খোঁজনিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের নাংলা ঘোনাপাড়া রহমানিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০২৩ সালে এমপিও হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ১২ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী সরকারি বিধি মোতাবেক বেতন ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু অভিযোগ আছে, যে সব শিক্ষার্থী দেখিয়ে এমপিও’র ছাড় করা হয়েছে। তা শুধু কাগজ কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তারই সত্যতা মিলেছে এবারের দাখিল পরীক্ষায়। ওই প্রতিষ্ঠানটিতে ১৮ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও প্রথম দিনে ৭ জন উপস্থিত ছিল। ২য় দিন পরীক্ষার আগে ভুয়া পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি জানা জানি হলে এরপর থেকে আর কোন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলে বিভিন্ন মহলে দৌঁড়ঝাপ শুরু করে মাদ্রাসার সুপার আবুল বাশার। এর আগে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে একাধীক শিক্ষককে এমপিও’র পূর্বে অন্যায় ভাবে বাদ দিয়ে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে নতুন শিক্ষক পদায়ন করার অভিযোগ আছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তবে অনেকের দাবি আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও চলমান এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান নিজেকে বাঁচাতে সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ পেতে সুপারের বরাবর এ পত্র দিয়েছেন।