মাসুদ রানা,গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
পৌষের মাঝামাঝিতে নদ-নদী বেষ্টিত উত্তরের জনপদ গাইবান্ধায় আবারও বেড়েছে শীতের তীব্রতা। ঘন কুয়াশার পাশাপাশি উত্তরে হিমালয় থেকে আসা ঠান্ডা বাতাসে হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রতিদিনই কমছে তাপমাত্রা। গত তিনদিনের ব্যবধানে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি থেকে ১১ ডিগ্রিতে নেমেছে।
শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় এই মৌসুমে গাইবান্ধার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। শীতের দাপটে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। গত তিন দিন ধরে গাইবান্ধার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে।
দিনে সূর্যের আলো দেখা মানে আসমানে চাঁদ দেখার মতো।গত তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি গাইবান্ধায়।বিকেল না গড়াতেই তাপমাত্রা নামছে পাল্লা দিয়ে।সন্ধ্যার পর শুরু হচ্ছে কুয়াশাপাত।মাঝরাতে বৃষ্টির মতো পড়ছে কুয়াশা।পাশাপাশি থেমে থেমে বইছে ঠান্ডা বাতাস। ঘন কুয়াশা দিন কে রাতের রূপ দিচ্ছে ।
ঘড়ির কাঁটা না দেখে বলাই মুশকিল কখন দুপুর আর কখন বিকেল। সারাদিন ও কাটছে কুয়াশার ঘোর। এ সময় হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহনগুলো।
অনেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। পেটের দায়ে অনেক শ্রমজীবী মানুষ উপায় না পেয়ে কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই কাজে বের হচ্ছেন।এতে প্রভাব পড়েছে জীববৈচিত্র্যেও। অনেকে গবাদি পশুকে চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন খামারিরা।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালীর এক বৃদ্ধ বলেন,এই ক’দিনের শীতে কাবু হয়ে গেছি।বাইরে বের হতেই ভয় লাগে। ঠান্ডা বাতাসে মনে হয় শরীর অবশ হয়ে আসছে।বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকি।
মোঃ শাহজাহান ইসলাম প্রথম বুলেটিনকে বলেন,মোটা জ্যাকেট পরেছি,তারপরও ঠান্ডা যাচ্ছে না।ভ্যান কিছুদূর যাওয়ার পর হাতে আর অনুভূতি পাই না।খুব ভয় হয় কখন যে দুর্ঘটনায় পড়ি।
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো:মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম বুলেটিনকে জানান,প্রতিদিন গাইবান্ধা জেলার তাপমাত্রা কমে আসছে। কয়েকদিন থেকে গাইবান্ধা জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। আজ চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।যা আগামীতে আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।