শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা:-
এলজিইডির (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে অবশেষে কষ্ট লাঘব হতে যাচ্ছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষ্ণনগর হতে মুজার ঘুটা চার গ্রামের মানুষের। যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা এতদিন না থাকলেও এবার সেই ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরছে উপজেলার মানুষদের মধ্যে। উপজেলার কৃষ্ণনগর,মুজার ঘুটা,রংপুর,রুপরাম পুর,মানুষের দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডুমুরিয়া ফুলতলা উন্নয়নের রূপকার নারায়ণ চন্দ্র চন্দের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ প্রায় ২কিলোমিটারজুড়ে জ্বরজিন্য রাস্তা পিচঢালা পথ নির্মাণ হতে চলেছে এ সড়ক।
জানা গেছে,চার গ্রামের বেশিরভাগ মানুষেরই প্রধান পেশা কৃষি। এ ফসল দিয়েই চলে গ্রামবাসীর জীবন। যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় ফসল উৎপাদন করে ক্ষতিগ্রস্ত হতো কৃষকরা। সেজন্য রাস্তা নির্মাণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। অবশেষে সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আর সেই রাস্তাটি কৃষ্ণনগর থেকে মুজোর ঘুটা প্রায় ২কিলোমিটার রাস্তা উপজেলায় কৃষ্ণনগর হতে মুজার ঘুটা রংপুর মিলিত হবে। সড়কটি প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত হবে।
স্থানীয়রা জানান,এ সড়ক নির্মাণের ফলে গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে। সড়কটি নির্মাণ হওয়ায় বদলে যাবে পুরো চারটি গ্রামের কৃষিচিত্র। এজন্য তারা এমপি, ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
সমাজসেবক শুক মহজোন,অরুবিন্দু কবিরাজ,হরেন্দ্র মন্ডল বলেন,এ রাস্তাটি নির্মাণের জন্য এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। অবশেষে এমপি মহোদয়ের একান্ত চেষ্টায় রাস্তাটি হতে যাচ্ছে। এতে এলাকার কৃষকরা বেশ উপকৃত হবেন। বিশেষ করে মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে আমূল পরিবর্তন ঘটবে। এছাড়া জেলা-উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন হবে। এতে এই এলাকাটি একটি পর্যটন নগরী হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ‘গ্রাম হবে শহর’এ রাস্তাটি নির্মাণের ফলে সেটি প্রতিষ্ঠিত হবে।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন,আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে এল জি,ই ডির উদ্যোগে এই চার গ্রামের রাস্তাটি উন্নয়ন করা। শুধু চার গ্রাম নয়, সমগ্র ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা। এ রাস্তাটির আজ থেকে শুরু করেছি।একটি রাস্তার অভাবে হাজারো কৃষক,শ্রমিক,জনতার কৃষিকাজে ব্যাঘাত হচ্ছে যুগের পর যুগ ধরে। উৎপাদিত পণ্য যথাসময়ে বাজারজাত করতে না পারা ও নদীর তীরবর্তী চারটি গ্রামের পাশে বহমান বেশ কয়েক টি প্রাকৃতিক মাছের জলমহাল থাকলেও যাতায়াতের অপ্রতুলতার কারণে প্রকৃত মূল্য পায় না। কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের যথাযথ মূল্য না পেয়ে বারবার লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। ফলে কৃষি নিভর এলাকার কৃষকরা কৃষি কাজে দিন দিন আগ্রহ হারাচ্ছেন। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দুঃখ দূর্দশার কথা বিবেচনা করে মাননীয় সংসদ তার প্রচেষ্টায় এই রাস্তার কাজ হচ্ছে।