শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া (খুলনা) থেকে:
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর ইউনিয়নের ঘোনা মাদারডাঙ্গা গ্রামের রবিন মন্ডলের ছেলে নিউটন মন্ডল (৪৫) কচু চাষ করে, কচু ও লতি বিক্রি করে হয়েছেন লাখপতি। কঠোর পরিশ্রম করে নিজের ভাগ্যকে বদলে দিয়েছেন। নিজের ৫ একর (১০) বিঘা জমিতে তিনি পানি কচু চাষ করেন। এ পর্যন্ত তিনি লক্ষাধিক টাকার ১০ লক্ষ টাকার পানি কচু ও লতি বিক্রি করেছেন। পরিচর্যা, সার ও কীটনাশকসহ তার থেকে ৫লক্ষ টাকা খরচ করে ১০লক্ষ টাকা বিক্রিয় করেছেন।
কচুর পাশাপাশি মাছের ঘেরের আইলে লাউ, শিম এবং টমেটো রোপন করেছেন। সেখান থেকেও আরও লাভ আসবে বলে জানান এই কৃষক।
সরেজমিন দেখা যায়,কচু নিউটন মন্ডলের কচু গুড়ায় লম্বা লম্বা লতি হয়েছে। মাঘ মাসে তিনি কচুর চারা রোপন করে আরেক পৌষ-মাঘ পর্যন্ত (১ বছর) লতি তুলতে পারেন। এ পর্যন্ত তিনি ১০ লক্ষাধিক টাকার কচু ও লতি ডাটা বিক্রি করেছেন। কচু গাছে এখনো যে পরিমান লতি রয়েছে তাতে তিনি ধারনা করছেন অন্তত আরো লক্ষাধিক টাকার কচু ও লতি বিক্রি করতে পারবেন।
কথা হয় একই এলাকার বাসিন্দা আনন্দ মন্ডলের (৭০) সাথে তিনি বলেন, আমি বয়োবৃদ্ধো মানুষ আমি অনেক দিন ধরে দেখে আসছি কচু চাষ করতে। বাইরের অনেক ব্যাপারীরা নিউটনের কাছ থেকে ট্রাকে করে অনেক কচু ও লতি কিনে নিয়ে যায়, শুনেছি এ কচুর চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছে। স্থানীয় বাজারগুলোতে তিনি প্রতিটি লতির আটি ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং প্রতিটি কচু ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করেছেন।
কৃষক নিউটন মন্ডল জানান, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে কচু ও লতি চাষ করছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে চারা কিনে আনেন। তিনি বগুড়া জাতের কচু রোপণ করেছেন। তিনি কচু ও লতি চাষ করে সবসময় লাভবান থাকেন। নিজে পরিশ্রম করেন তার সুফলও তিনি পান। তিনি তৃপ্তির হাসি হেঁসে বলেন,আমি লতি চাষ করে এখন স্বাবলম্বী। আমার ৬ জনের সংসারে এখন কোনো অভাব নাই, আমি অনেক ভালো আছি।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, কচু একটি দীর্ঘমেয়াদী লাভজনক ফসল। যেকোন ফসলের চাইতে কচু চাষ করে অল্প খরচে বেশী লাভবান হতে পারেন। নিউটনের এই কচু চাষ দেখে বর্তমানে এলাকার অনেকে কৃষক কচু চাষে ঝুকে পড়েছে আমরা যথেষ্ট ভাবে সব চাষিদের সহযোগীতা করে আসছি এবং সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে থাকি।