লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি::কোটা বলতে কোন কিছুর নির্দিষ্ট অংশকে বুঝায় যা মূলত একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ থাকে। মূলত পিছিয়ে পড়া জাতীকে জনগণকে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে এই কোটার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের চাকরি ক্ষেত্রেও রয়েছে কোটা ব্যবস্থা। মোট ৫৬ শতাংশ। যার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটাই ৩০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, নারী কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নিয়ে জনগোষ্ঠীর কোটা ৫ শতাংশ ও প্রতিবন্ধী কোটা ১ শতাংশ।
বাকি ৪৪ শতাংশই বাংলাদেশের বৃহৎ এক জনগোষ্ঠীর শিক্ষিত মেধাবী ও যাদের কোটা নেই, তাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে, জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করার ফলে আজ আমরা স্বাধীন দেশে বসবাস করছি, তাদেরকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাদের পরিবারের জন্য কিছুটা কোটা থাকতেই পারে। কিন্তু আমার দেখা অনেক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার আজও প্রাপ্ত হয়নি প্রাপ্য সম্মানে।
লেখক আমি মোঃ রাওফুল বরাত বাঁধন ঢালী।
আমার পিতা ও একজন প্রকৃত মুক্তি যোদ্ধা,তাঁর বয়স এখন ৯৫বছর ইনশাআল্লাহ সে এখন ও দৌড়ায়, নাম: মো: আব্দুর রহমান ঢালী। তাঁর পিতার নাম,কালাম ঢালী, আমার বাবার মুখে শুনলেই সব পানির মতো ক্লিয়ার হয়ে যায়,তাঁর মুক্তি যোদ্ধা সাটিফিকেট ও ছিল, যখন দেশি-বিদেশি কুচক্র পাকিস্তান পন্থী হায়নারা মিলে বাঙালি, বাংলা ভাষার জাতির পিতা । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নিসংসো ভাবে হত্যা করে,।তখন সারা বাংলার নেয় আসল মুক্তি যোদ্ধারা ভয়ে নির বাগ হয়ে যায় লাগিয়ে দেয় আমার পিতার ঘর।
এমন কি আমার বাবা সহ তিন চাচা ছিলেন যুদ্ধে তার মধ্যে একজন চাচার সাটিফিকেট আজও আছে, আর একজন শহীদ হন।আর আমার বাবার মুক্তি যোদ্ধার কাগজ সাটিফিকেট পুড়ে যায়, যেমন, গাজীপুর জেলা শ্রীপুর উপজেলার বর্মী ইউনিয়নের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান মাস্টার (মতিন মাস্টার) ওনার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় যুদ্ধ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের সময়। কিন্তু আজও উনি ওনার মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেটটিও পাননি। শ্রীপুর উপজেলার পেলাইদ গ্রামের শহীদ সিরাজ উদ্দিন আকন্দের ছেলেমেয়েরা কোন প্রকার সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হননি। তাই অবশ্যই স্বাধীনতার ৫৩বছর পারি দিয়ে ও আজও আমরা প্রকৃত মুক্তি মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করতে পারছিনা, এটা কি উচিত।
কিন্তু কোটা সেটা অবশ্যই ৩০ শতাংশ হতে পারে না। জেলা কোটা, নারী কোটা এক থেকে দুই শতাংশ থাকতে পারে। প্রতিবন্ধী কোটা, জনগোষ্ঠী কোটা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ যেহেতু পিছিয়ে পড়া জনগণকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য কোটা ব্যবস্থা, তাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোটা ও প্রতিবন্ধী কোটা অবশ্যই থাকতে হবে।
সকল কোটা মিলিয়ে বাংলাদেশের চাকরি ক্ষেত্রে কোটার পরিমাণ সর্বোচ্চ ১২ থেকে ২০% রেখে বাকিটুকু মেধাবীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা আবশ্যক। তা না হলে, মেধাবীরা মূল্যায়িত না হলে মেধা বিকাশে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অনিহা চলে আসবে।
তাই কোটা সংস্কার আন্দোলন যৌক্তিক বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। চাকরি ক্ষেত্রে মেধাবির অন্তর্ভুক্ত হলে অবশ্যই দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে শেখ হাসিনার সপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মান হবে। হবে জাতির জনকের সপ্নের সোনার বাংলা দেশ।