কলারোয়ায় প্রতিনিধি:: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় হার পাওয়ার প্রকল্পে উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার কর্মকতার্ মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের হার পাওয়ার প্রকল্পে “ নারীর ক্ষমতায়ন প্রকল্পের আওতায় উইম্যান আইটি সার্ভিজ প্রভাইডার” এর মাধ্যমে সারা দেশের ন্যায় গত রোজার ঈদের আগে সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮০ জন নারীকে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়। কলারোয়া পৌর সদরের সরকারী জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুল, শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে দীর্ঘ ৬ মাস ব্যাপী মোট ১৩২ দিন প্রশিক্ষন দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষন নেওয়া নারী মীম, মনোয়ারা, সাফিয়া, সারমিন আরা এলিজ, রাশিদা আক্তার, জান্নাতুল রানী, স্নিগ্ধা,সুমাইয়া, তানিয়া, শোভা, মর্জিনা,মহসিনাসহ অনেকই অভিযোগ আকারে বলেন, আমরা ওই প্রকল্পে নারীর ক্ষমতায়ন প্রকল্পের আওতায় ১৩২ দিন প্রশিক্ষন নিয়েছি।

প্রশিক্ষন চলাকালীন সময়ে উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার কর্মকতার্ মোতাহার স্যার জানিয়ে দিয়েছিলেন আপনারা উক্ত প্রশিক্ষন বাবদ জনপ্রতি প্রতিদিন ৩৯ টাকা পাবেন এবং সাথে টিএডিএ পাবেন। সেই মোতাবেক দীর্ঘদিন পরে গত ২৩ জুন আমাদের প্রশিক্ষন নেওয়া ৮০জন নারীকে কলারোয়া সরকারী জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুলে ডেকে জনপ্রতি কারো কারো ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা প্রদান করা হয়। অথচ আমাদেরকে জানিয়েছিলেন প্রশিক্ষন বাবদ আপনারা পাবেন ৫ হাজার ১৪৮ টাকা।
সেই হিসেবে গড়ে মোট ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার কর্মকতার্ মোতাহার হোসেন আত্মসাত করেছেন বলে তাদের অভিযোগ। এ ছাড়া যাতায়াত ও নাস্তা খরচ বাবদ একটি টাকাও দেননি বলেও প্রশিক্ষন নেওয়া নারীদের অভিযোগ।
প্রকল্পের সদস্য সচিব উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার মোতাহার হোসেন প্রশিক্ষন নেওয়া নারীদের জনপ্রতি প্রত্যেকদিন ৩৯ টাকা পাওয়ার বিষয়ে স্বিকার করে বলেন, প্রশিক্ষনাথর্ী যে নারী যে কয়দিন প্রশিক্ষন নিয়েছে সেই হিসেবে টাকা প্রদান করা হয়েছে।
প্রকল্পের প্রাইভেসি লিমিটেডের কর্মকতার্ আশিকুর রহমান জানান, আমার আইসিটি বিভাগের কর্মকতার্ ড.নাজমুল হুদা স্যার দেওয়া প্রশিক্ষন নেওয়া নারীদের নামের তালিকা অনুযায়ী টাকার খাম বিতরণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের সভাপতি নবাগত উপজেলা নিবার্হী অফিসার মাসফিকা হোসেন জানান, প্রশিক্ষণ যখন হয়েছিল তখন আমি ছিলাম না। তবে আজ টাকা বিতরণের বিষয়টি আমি জানি। তবে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত নারীদের টাকা কম দেওয়ার বিষয়টি জানিনা। সোমবার (২৪ জুন) অফিসে গিয়ে টাকা কম দেওয়ার বিয়টি জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।